
'আমার ভালবাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব সময় থাকবে।' নতুন তৃণমূল নিয়ে প্রশ্ন করতেই জবাব দেবের। মঙ্গলবার কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়েছিলেন। তৃণমূলে ভাঙনের আবহে এই মিটিংয়ে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। তবে সেই সব জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিলেন অভিনেতা-সাংসদ। জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ভালবাসা এবং শ্রদ্ধা অটুট।
প্রশাসনিক বৈঠকের পর দেব বলেন, '২০১৪ সাল থেকে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আমি লড়াই করছি। ২০২৪ সালেও এই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। এখন রাজ্যের সরকার বদলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তিনি এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি নিতেই আমি এসেছিলাম।'
দেবের বক্তব্য, তিনি বরাবরই সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ঘাটালের সাংসদ বলেন, '২০১৪ সাল থেকে আপনারা আমাকে সাংসদ হিসেবে দেখছেন। আমি সব সময় সকলকে সম্মান করেছি। যে দলেই থাকি না কেন, কাউকে অপমান করিনি। আমার মঞ্চ থেকে কখনও কাউকে আক্রমণ করিনি। আমাকে কেউ ‘জয় শ্রী রাম’ বললেও আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরেছি। আমি এমন কোনও কাজ করব না, যাতে আমার ভোটারদের মনে হয় তাঁরা ভুল মানুষকে ভোট দিয়েছেন।'
অন্য কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই অবস্থান স্পষ্ট করলেন দেব। বলেন, 'আমার ভালবাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব সময় থাকবে। আমি এখানে তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই এসেছি। আমাদের জনগণের রায় মানতে হবে। আমি তো অস্বীকার করতে পারি না যে শুভেন্দু অধিকারী এখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সাংসদ হিসেবে আমার দায়িত্ব হল ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাধ্যমে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শেষ করা।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগও রয়েছে বলে জানালেন দেব। তাঁর কথায়, 'উনি যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন আমি দিদির পাশে। আপনারা যে ধরনের রাজনীতির কথা বলেন, সেই রাজনীতি আমি কোনও দিন করিনি।'
দলের ভিতরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। এমনই দাবি তুলেছেন বিদ্রোহী TMC সাংসদ-বিধায়কদের একাংশ।সে প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন দেব। তাঁর দাবি, 'আমি কোনও দিন বলতে পারব না যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কথা শোনেননি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের অনুমোদনও উনিই দিয়েছেন। আমি দিদিকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। তবে ২০২৯ সালের আগে আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করাও জরুরি। আর সেটা করতে গেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য প্রয়োজন।'
নতুন সরকার এক মাস হল। কেমন লাগছে? সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে দেব বললেন, 'যে কোনও নতুন সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। শুভেন্দুদা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। আমরা এক সময়ে একই হেলিকপ্টারে করে উত্তরবঙ্গে প্রচারে যেতাম। দিদি যেমন লড়াই করে উঠে এসেছেন, শুভেন্দুদাও তেমনই সংগ্রাম করে উঠে এসেছেন।'