
বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে। অগাস্ট মাসের মধ্যে সমস্ত সরকারি দফতরে স্মার্ট মিটার বসানো ও সেগুলো চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি চালুর পথ প্রশস্ত হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯২ হাজার সরকারি দপ্তর রয়েছে। এর মধ্যে আগের সরকারের আমলে প্রায় ৮০ হাজার দফতরে স্মার্ট মিটার বসানো হলেও সেগুলি চালু করা হয়নি। এবার বাকি প্রায় ১২ হাজার দফতরেও মিটার বসিয়ে পুরো ব্যবস্থা সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই সমস্ত দফতরে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা।
সূত্র আরও জানাচ্ছে, সম্প্রতি কলকাতায় কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে বৈঠকে সরকারি দফতরগুলিতে স্মার্ট মিটার স্থাপন নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পরই দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ আসে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি দফতরে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হলে রাজ্য বিশেষ আর্থিক সুবিধাও পেতে পারে। সেই কারণেই দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
স্মার্ট মিটার মূলত প্রিপেইড ব্যবস্থায় কাজ করে, যেখানে ব্যবহার অনুযায়ী আগেই রিচার্জ করে বিদ্যুৎ খরচ করতে হয়। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের রিয়েল-টাইম নজরদারি, চুরি রোধ এবং পরিষেবা ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে অতীতে এই প্রকল্প ঘিরে গ্রাহক অসন্তোষও দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে বিল বৃদ্ধি এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যার অভিযোগে একাধিক জেলায় আন্দোলন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার ধাপে ধাপে এবং পরীক্ষামূলকভাবে সাধারণ গ্রাহকদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।