
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই জনগণনা (সেনসাস ২০২৭) নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে গণনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে। সেখানে তাঁদের জনগণনার বিভিন্ন ধাপ, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আগামী অগাস্ট মাস থেকেই জনগণনার প্রথম পর্ব শুরু হবে। এই পর্যায়ে দু'টি ধাপ থাকবে। প্রথম ধাপ চলবে ১ থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে হবে 'সেলফ এনিউমারেশন' বা স্বগণনা। নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের তথ্য পূরণ করতে হবে। যদিও তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব মূলত পরিবারের, প্রয়োজনে গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবেন।
প্রশিক্ষণে গণনাকর্মীদের জানানো হয়েছে, এই সময়ে তাঁদের নির্ধারিত এলাকায় বাড়ির সংখ্যা, পরিবারের সংখ্যা-সহ প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের স্বগণনার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে হবে।
এরপর ১৬ থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনলাইনে জমা পড়া তথ্য যাচাই করবেন গণনাকর্মীরা।
প্রাথমিক পর্ব শেষ হওয়ার পর আগামী বছরের পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে চলবে জনগণনার চূড়ান্ত পর্ব। প্রত্যেক গণনাকর্মীকে গড়ে ১৫০ থেকে ১৮০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট চিত্রের সাহায্যে এলাকার ম্যাপিংয়ের কাজও করতে হবে।
৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে
স্বগণনার সময় নাগরিকদের মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) যাবে।
প্রধান প্রশ্নগুলির মধ্যে থাকবে-
বাড়ির নম্বর ও সেন্সাস গৃহ নম্বর
মেঝে, দেওয়াল ও ছাদের প্রধান নির্মাণসামগ্রী
বাড়ির ব্যবহার ও বর্তমান অবস্থা
পরিবারের সংখ্যা ও সদস্যসংখ্যা
পরিবারের প্রধানের নাম, লিঙ্গ এবং তিনি তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত কি না
বাড়ির মালিকানার ধরন
বসবাসযোগ্য ঘরের সংখ্যা
বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা
পানীয় জলের উৎস
বিদ্যুতের প্রধান উৎস
শৌচালয় ও তার ধরন
জলনিকাশী ব্যবস্থা
বাড়িতে স্নানের ব্যবস্থা রয়েছে কি না
রান্নাঘর ও এলপিজি সংযোগ
রান্নার জ্বালানির ধরন
রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সুবিধা
মোবাইল বা স্মার্টফোনের ব্যবহার
সাইকেল, মোটরসাইকেল, স্কুটার কিংবা চারচাকার গাড়ি রয়েছে কি না
পরিবারের প্রধান খাদ্যশস্য
মোবাইল নম্বর
এ ছাড়াও পরিবারের প্রতিটি সদস্য সম্পর্কে পৃথক তথ্য দিতে হবে। যেমন, পুরুষ, মহিলা বা তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যসংখ্যা, বয়স, লিঙ্গ-পরিচয়-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। বাড়ির নির্মাণের ধরন সম্পর্কেও নির্দিষ্ট বিভাগ অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে।
১৫ বছর পর হচ্ছে জনগণনা
ভারতে শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ২০২১ সালে পরবর্তী জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও, কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর এবার দেশজুড়ে আবার জনগণনা হতে চলেছে। এই জনগণনার লক্ষ্য শুধু জনসংখ্যা গণনা নয়; দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান, বাসস্থানের অবস্থা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচালয়, রান্নার জ্বালানি, ডিজিটাল সুবিধা-সহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
অতীতেও জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প ও নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। যেমন, ২০০১ সালের জনগণনার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে স্কুলে মধ্যাহ্নভোজ (মিড-ডে মিল), বনাধিকার আইন এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই জনগণনার মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যা কত বেড়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার মান কতটা বদলেছে এবং বিভিন্ন মৌলিক পরিষেবার নাগাল কতদূর পৌঁছেছে, তার একটি স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে।