
ডানলপ থেকে বারাকপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত বহু প্রতীক্ষিত মেট্রো প্রকল্প ফের একবার চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সূত্রের খবর, এই মেট্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। বারাকপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেলের অনুমতি মিললেই রাজ্য সরকারের তরফে কোনো বাধা থাকবে না এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
বিধায়ক আরও জানান, আগামী ৬ জুন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যে আসছেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যাতে কাজ শুরুর পথ সুগম হয়।
ডানলপ-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্পটি দীর্ঘদিনের প্রস্তাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। তবে বিটি রোডের নীচে থাকা কয়েকটি বড় পানীয় জলের পাইপলাইন, বিশেষ করে ৭২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রধান পাইপ, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই পাইপের মাধ্যমেই পলতা থেকে পরিশোধিত জল টালা ট্যাঙ্কে পৌঁছে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। ফলে মেট্রো নির্মাণে ক্ষতির আশঙ্কায় কলকাতা পুরসভা তখন অনুমোদন দেয়নি।
সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে এই প্রকল্প নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী জানিয়েছেন, মেট্রো রেলের নতুন জেনারেল ম্যানেজার এবং প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখে কীভাবে জলের পাইপলাইন অক্ষুণ্ণ রেখে মেট্রোর কাজ করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।
তিনি আরও জানান, রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জটিল অবকাঠামো রক্ষা করে মেট্রো নির্মাণ এখন অনেক সহজ হয়েছে বলেও তিনি আশাবাদী।
প্রসঙ্গত, ডানলপ থেকে বারাকপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে মোট ১১টি মেট্রো স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেশনগুলির প্রাথমিক রূপরেখাও ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে।
এখন সকলের নজর রেলমন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে। অনুমোদন মিললে বারাকপুর মহকুমার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।