
তৃণমূল কংগ্রেস নামটি আপাতত ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। ফ্রিজ করা হয়েছে জোড়াফুল প্রতীকও। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম এবং প্রতীক ঠিক করে দিল নির্বাচন কমিশন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের নতুন প্রতীক হল খাম। আর তাঁদের দলের নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের নাম হল মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের সিম্বল হল ফুটবল প্লেয়ার। এই দুই দল এই নাম এবং প্রতীক নিয়েই রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন লড়বে।
মাথায় রাখতে হবে, এই দুই শিবিরের কাছেই নাম এবং প্রতীক কী হবে, সেই বিকল্প জানতে চেয়েছিল কমিশন। তারা নিজেদের মতামত জানিয়েছে। তারপরই দুই শিবিরের নাম এবং প্রতীক ঠিক করে দিয়েছে কমিশন। এই প্রতীক এবং নাম নিয়েই আসন্ন নির্বাচনে লড়াই করতে হবে দুই শিবিরকে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পরই ভেঙেছে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি। বিদ্রোহী হয়েছেন ৬০ জনের বেশি বিধায়ক। তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ওদিকে দলের একটি অংশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেত্রী হিসেবে মনে করেন। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস নামটা কার থাকবে, কার কাছে থাকবে জোড়া ফুল প্রতীক, সেটা নিয়ে নিজেদের দাবি জানিয়েছিল দুই পক্ষই। আর দুই শিবিরের এই ঝামেলায় তৃণমূল কংগ্রেস নামটি এবং জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দেয় কমিশন। দুই শিবিরের কাছেই নতুন নাম ও প্রতীকের বিকল্প চাওয়া হয়।
তিনটি নামের প্রস্তাব করে ঋতব্রত শিবিরের
একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋতব্রত শিবির তিনটি নামের প্রস্তাব কমিশনে জমা দিয়েছিল। প্রথমটি হল, জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ও ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির তাদের দলের নামে মমতাকে রাখতে চেয়েছিল। যেহেতু ওই শিবিরের মুখ মমতা, তাই তাঁর নাম ব্যবহার করেই নতুন নাম নিতে প্রস্তাব রেখেছিল মমতা-শিবির। অতীতে যেমন ইন্দিরা কংগ্রেস যখন গঠন হয়েছিল, তখন নাম রাখা হয়েছিল কংগ্রেস (আই)। মমতা শিবিরও চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস (এম) নামটি। যাতে তা মমতাপন্থী হিসেবে তুলে ধরা যায় ভোটারদের কাছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থীরা মোট তিনটি নামের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথমটি হল, মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, দ্বিতীয়টি হল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা ও তৃতীয়টি হল কালীঘাট তৃণমূল।