
বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধে গুলি চলল। ফের উত্তপ্ত ভাটপাড়া। বুধবার ভাটপাড়ায় গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এক ব্যক্তির কানে গুলি লেগেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদি বিজেপি নেতা অর্জুন সিং দাবি করেছেন, ২ জন জখম হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বোমাবাজি করা হয়েছে। তারপরে ৫-৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি তাঁদের কর্মী বলে দাবি করেছে বিজেপি। অতীতে ভাটপাড়ায় একাধিক বার গুলি চালানোর ঘটনা সংবাদ শিরোনামে এসেছে।
গতকাল পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের ডাকা নবান্ন অভিযানে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী খণ্ডযুদ্ধ চলেছে। পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি জখম হন আন্দোলনকারীরাও। নবান্ন অভিযানে পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে আজ বাংলা বনধ ডেকেছে বিজেপি। সেই বনধের মধ্যেই এবার গুলি চলল ভাটপাড়ায়।
বিজেপির বনধে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাব পড়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় রেল অবরোধ চলছে। হুগলি, কাটোয়া, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা, মুর্শিদাবাদ, কৃষ্ণনগরে প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলে। বিভিন্ন লাইনে দাঁড়িয়ে লোকাল ট্রেন। বিজেপির ডাকা বন্ধে সকালেই রেল অবরোধ হুগলি স্টেশনে। ব্যান্ডেল-হাওড়া লোকাল আটকেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ব্যারাকপুর স্টেশনেও রেল অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। রেল লাইনে দাঁড়িয়ে যান বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। যাকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়ায়। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্য়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
বনধের সমর্থনে নন্দীগ্রামে মিছিল করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু। এদিন সকালে কলকাতার ভবানীপুরে রাস্তায় বসে পড়েন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। অগ্নিমিত্রা বলেছেন, 'পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অকার্যকর করেছে। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর রাসায়নিক মিশ্রিত জলকামান ব্যবহার করেছে। তারা রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম এবং যখন মহিলারা প্রতিবাদ করে, তখন তারা তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য শক্তি প্রয়োগ করে। আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।'