
তীব্র গরম ও বাড়তে থাকা তাপমাত্রার মধ্যেই স্বস্তির খবর শোনাল আবহাওয়া দফতর। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি সক্রিয় আবহাওয়াজনিত সিস্টেমের জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির জন্যও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ফলে বর্ষার আগমনের অপেক্ষা আরও কিছুটা কমতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হয়েছে, যা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এই সিস্টেমের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুও দ্রুত উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে।
উত্তর ভারতে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা
উত্তরপ্রদেশ, বিহার-সহ উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি হয়েছে। বিহার ও উত্তরাখণ্ডের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ৩৮টি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিমাচল প্রদেশের কুল্লু জেলায় ইতিমধ্যেই ঝড় ও বৃষ্টির জেরে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। আগামী দু’দিনের জন্য সেখানে কমলা ও হলুদ সতর্কতাও জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
১৪ থেকে ১৭ মে-র মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে অসম, মেঘালয়, মণিপুর-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সক্রিয় সিস্টেমের প্রভাব পড়বে ওড়িশাতেও। আগামী ছ’দিন ধরে রাজ্যের বহু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ওড়িশার ২০টি জেলার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।
বর্ষার অগ্রগতিতে অনুকূল পরিস্থিতি
ভারত আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ অনুকূল হয়ে উঠছে। সপ্তাহের শেষের দিকে মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশে প্রবেশ করতে পারে। এর জেরে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও তাপপ্রবাহ, দুই ধরনের আবহাওয়াই একসঙ্গে দেখা যেতে পারে।
পূর্ব ভারতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা
আগামী কয়েকদিন বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও ওড়িশায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বিহারে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতে ঝোড়ো হাওয়া
তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও কেরালার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। অনেক জায়গায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস।
কোথায় থাকবে তাপপ্রবাহ?
একদিকে বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও, অন্যদিকে দেশের কিছু অংশে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের কয়েকটি এলাকায় আগামী ১২ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত তীব্র গরমের আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিম রাজস্থান ও গুজরাটে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও প্রকট হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।