
বর্ষা রাজ্যে প্রবেশ করলেও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষ করে কলকাতা, এখনও ভুগছে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আর্দ্রতায়। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, শনি ও রবিবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ‘ফিল লাইক’ বা অনুভূত তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। ফলে সপ্তাহান্তে চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার জন্য জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। শহরের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ভারী বা টানা বৃষ্টির কোনও ইঙ্গিত এখনও নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় (২৬ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ২৭ জুন সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত) কলকাতায় বৃষ্টির কোনও রেকর্ড নেই। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির আশপাশে থাকবে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম থেকেই যাবে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, রবিবার বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। সোমবার কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলার তুলনায় তা তুলনামূলক কমই থাকবে।
সোমবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া, মঙ্গল-বুধবার বাড়বে দুর্যোগ
আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন শুরু হবে। বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যেতে পারে মঙ্গলবার ও বুধবার। সেই সময় নিম্নচাপটি স্থলভাগের আরও কাছাকাছি চলে আসবে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।
উত্তরবঙ্গে কোথায় জারি কমলা সতর্কতা?
শনিবারের আবহাওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
এর পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং ডুয়ার্স অঞ্চলেও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। প্রবল বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কাও রয়েছে। বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় খোলা মাঠ, জলাশয়ের ধারে বা গাছের নিচে না থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে বছরের প্রথম নিম্নচাপ
উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে, যা ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, আগামী ২ বা ৩ জুলাই এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে স্থলভাগের দিকে এগোতে পারে।
এই সিস্টেমের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের গাঙ্গেয় উপত্যকা ও উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।