Advertisement

Hilsa Fish: বড় মাছ তো দূর! 'খোকা' ইলিশই তো হাজারের কাছাকাছি, দাম কি কমবে? যা জানা যাচ্ছে

Ilish Price Kolkata: এক সময় বর্ষা মানেই ছিল বাঙালির পাতে ইলিশ। কিন্তু দিন দিন সেই ছবি বদলে যাচ্ছে। এখন বেশ উচ্চবিত্ত না হলে নিয়মিত ইলিশ খাওয়া অসম্ভব। গোটা সিজনে দু-একবার খেয়েই তুষ্ট থাকতে হয়। আর ২০২৬ এ তো পরিস্থিতি আরও খারাপ।

ভরা মরসুমেও এত চড়া দাম কেন?ভরা মরসুমেও এত চড়া দাম কেন?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 07 Aug 2026,
  • अपडेटेड 3:39 PM IST
  • জুন মাসের শেষের দিক থেকেই কলকাতার বাজারে দেখা মিলছিল ইলিশের।
  • জুলাই মাস থেকে টানা বৃষ্টি হলেও, এখনও কলকাতায় চড়া দামে বিকোচ্ছে ইলিশ।
  • কিন্তু এমন পরিস্থিতি কেন? খোঁজ নিল bangla.aajtak.in

Ilish Price Kolkata: এক সময় বর্ষা মানেই ছিল ইলিশ। কিন্তু দিন দিন সেই ছবি বদলে যাচ্ছে। এখন বেশ উচ্চবিত্ত না হলে নিয়মিত ইলিশ খাওয়া অসম্ভব। গোটা সিজনে দু-একবার খেয়েই তুষ্ট থাকতে হয়। আর ২০২৬ এ তো পরিস্থিতি আরও খারাপ। জুনের শেষ থেকেই কলকাতার বাজারে ইলিশ উঠছে। দাম ছিল আগুন। অগাস্টেও দাম কমার কোনও লক্ষণ নেই। বরং এক কেজির আশপাশের ইলিশই এখন হাজার টাকারও বেশি। ফলে মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে ইলিশ এখন বিলাসিতার সামিল। প্রশ্ন উঠছে, ভরা মরসুমেও এত চড়া দাম কেন? শুধু কি কম মাছ ধরা পড়ছে, নাকি এর পিছনে আরও একাধিক কারণ রয়েছে?

কলকাতায় ইলিশের দাম
কলকাতার বিভিন্ন বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ গ্রাম থেকে ১.১ কেজি ওজনের ইলিশ। এই মাছের কেজি দর ঘোরাফেরা করছে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে। ১.২ থেকে ১.৩ কেজির বড় ইলিশের দাম পৌঁছে যাচ্ছে ১,৫০০-১,৬০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, ৭০০-৯০০ গ্রামের ইলিশের দামও ৯০০-১,০০০ টাকার আশপাশে। তুলনায় ৫০০-৬০০ গ্রামের মাছ কিছুটা সস্তা হলেও বাজারের বড় অংশে সেই মাছের অনেকটাই হিমঘরের বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সেই ইলিশে টেস্টও নেই। 

মাছ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, মূল সমস্যা আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র বারবার উত্তাল হয়ে উঠছে। ফলে ট্রলারগুলি সমুদ্রে দীর্ঘ সময় থাকতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রেই দু'-তিন দিনের মধ্যে অল্প মাছ নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বাজারে সরবরাহ কমে যাচ্ছে। আর চাহিদা একই থাকায় দামও ঊর্ধ্বমুখী।

মৎস্য ব্যবসায়ীদের মতে, পাইকারি বাজারেই যখন মাছের দাম বেশি, তখন খুচরো বাজারে তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সমুদ্রে ট্রলার বেশি দিন থাকতে পারবে, মাছের জোগানও বাড়বে। তখন দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সমস্যাটা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়। বাংলাদেশের উপকূলেও এ বছর ইলিশের জালে আশানুরূপ মাছ উঠছে না বলে সেখানকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। জেলেদের একাংশের অভিযোগ, নদীতে পলি জমা, নতুন চর তৈরি হওয়া এবং সমুদ্রের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে আগের মতো ইলিশ মিলছে না। অনেক ট্রলারই লোকসান নিয়ে ফিরছে। বছরের পর বছর অতিরিক্ত ইলিশ ধরার ফলে জলে মাছের সংখ্যাও কমে গিয়েছে। বেড়ে ওঠা, প্রজননের সুযোগটুকুও পাচ্ছে না মাছের রাজা। 

Advertisement

বাংলাদেশ কি এ বছর ভারতে ইলিশ রফতানি করবে?
প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশ আসার অপেক্ষায় থাকেন বহু ক্রেতা। কিন্তু এ বার বাংলাদেশেও উৎপাদন কম। ফলে সেই রফতানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখনও সরকারিভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে পুজোর বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের দেখা মিলবে কি না, তা জানতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে হলে মা ইলিশ এবং জাটকা(ছোট ইলিশ) সংরক্ষণে আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সমুদ্রে মাছ ধরার পরিমাণও বাড়বে। তবেই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দাম কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে পারে। আপাতত বাঙালির প্রিয় অনেকের সাধ্যের বাইরে ‘মাছের রাজা’ রয়ে গিয়েছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement