Advertisement

West Bengal Government Employee Advance Salary : ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতনের রাজ্য সরকারি কর্মীরা কত টাকা অ্যাডভান্স পাবেন? সহজভাবে বুঝুন

এবার আসা যাক মাল্টি-মান্থ বা দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের হিসাব। এই ক্ষেত্রে কর্মীর মাসিক নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণের সীমা রাখা হয়েছে। তবে শুধু ৩০ দিয়ে বেতন গুণ করলেই যে পুরো টাকা পাওয়া যাবে, তা নয়। ঋণদাতা ব্যাঙ্ক বা এনবিএফসি আবেদনকারীর আর্থিক পরিস্থিতি এবং নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন করে ঋণের অঙ্ক ঠিক করবে।

রাজ্য সরকারের অ্যাডভান্স স্কিম রাজ্য সরকারের অ্যাডভান্স স্কিম
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 05 Nov 2026,
  • अपडेटेड 8:37 PM IST
  • এ বার আসা যাক মাল্টি-মান্থ বা দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের হিসাব
  • এই ক্ষেত্রে কর্মীর মাসিক নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণের সীমা রাখা হয়েছে

জরুরি প্রয়োজনে টাকার দরকার হলে এবার রাজ্য সরকারি কর্মীরা বেতনের ভিত্তিতেই অগ্রিম টাকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম’-এ স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমের পাশাপাশি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুবিধাও। কিন্তু কারও মাসিক নেট বেতন ২০ হাজার টাকা হলে তিনি কত টাকা পাবেন? ৩০ হাজার, ৪০ হাজার বা ৬০ হাজার টাকা বেতন হলে অঙ্কটা কত দাঁড়াবে? অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমের ক্ষেত্রে নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের ক্ষেত্রে নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণের সীমা রাখা হয়েছে। তবে এই দুই সুবিধার হিসাব ও শর্ত আলাদা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বেতনের অঙ্ক অনুযায়ী কত টাকা অগ্রিম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রথমেই জেনে নিন, নেট বেতন কী?

এই হিসাব বোঝার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। এখানে বেতন বলতে মোট বেতন বা গ্রস স্যালারি বোঝানো হচ্ছে না। হিসাব হবে মাসিক নেট পে বা হাতে পাওয়া বেতনের ভিত্তিতে। অর্থাৎ GPF, NPS, GIS, প্রফেশনাল ট্যাক্স এবং সরকারের অন্যান্য প্রাপ্য টাকা কেটে নেওয়ার পর যে বেতন হাতে আসে, সেটিই এই হিসাবের ভিত্তি।

ধরা যাক, কোনও কর্মীর মোট বেতন ৩৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন খাতে টাকা কাটার পর তাঁর হাতে আসে ৩০ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে অগ্রিমের হিসাব হবে ৩০ হাজার টাকার ভিত্তিতে, ৩৫ হাজার টাকার ভিত্তিতে নয়।

১. ২০ হাজার টাকা নেট বেতন হলে কত টাকা পাবেন?

প্রথমে স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমের হিসাব দেখা যাক। এই ক্ষেত্রে আবেদনকারী তাঁর মাসিক নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা নিতে পারবেন। অগ্রিম নেওয়া টাকা একই মাসে অথবা পরবর্তী বেতন চক্রে, সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে।
- নেট বেতন ২০,০০০ টাকা হলে সর্বোচ্চ অগ্রিম ১০,০০০ টাকা।
- নেট বেতন ৩০,০০০ টাকা হলে সর্বোচ্চ অগ্রিম ১৫,০০০ টাকা।
- নেট বেতন ৪০,০০০ টাকা হলে সর্বোচ্চ অগ্রিম ২০,০০০ টাকা।
- নেট বেতন ৫০,০০০ টাকা হলে সর্বোচ্চ অগ্রিম ২৫,০০০ টাকা।
- নেট বেতন ৬০,০০০ টাকা হলে সর্বোচ্চ অগ্রিম ৩০,০০০ টাকা।

Advertisement

অর্থাৎ, কারও নেট বেতন ৫০ হাজার টাকা হলে তিনি সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অগ্রিম নিতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিলে কোনও সুদ দিতে হবে না। এই স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমের ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি বা প্ল্যাটফর্ম ফি নেওয়ারও নিয়ম নেই। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ লেনদেন ফি ধার্য হতে পারে। সরকারি বা ডিডিও-র কারণে টাকা কাটতে দেরি হলে এই ফি দিতে হবে না। 


২. দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমে কত টাকা পাওয়ার সুযোগ?

এ বার আসা যাক মাল্টি-মান্থ বা দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের হিসাব। এই ক্ষেত্রে কর্মীর মাসিক নেট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণের সীমা রাখা হয়েছে। তবে শুধু ৩০ দিয়ে বেতন গুণ করলেই যে পুরো টাকা পাওয়া যাবে, তা নয়। ঋণদাতা ব্যাঙ্ক বা এনবিএফসি আবেদনকারীর আর্থিক পরিস্থিতি এবং নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন করে ঋণের অঙ্ক ঠিক করবে।

বেতনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ক্রেডিট লিমিটের হিসাবটি হল:
মাসিক নেট বেতন    সর্বোচ্চ ক্রেডিট লিমিট
২০,০০০ টাকা    ৬ লক্ষ টাকা
৩০,০০০ টাকা    ৯ লক্ষ টাকা
৪০,০০০ টাকা    ১২ লক্ষ টাকা
৫০,০০০ টাকা    ১৫ লক্ষ টাকা
৬০,০০০ টাকা    ১৮ লক্ষ টাকা

অর্থাৎ, কোনও কর্মীর মাসিক নেট বেতন ৬০ হাজার টাকা হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর সর্বোচ্চ ক্রেডিট লিমিট ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আবার ২০ হাজার টাকা নেট বেতন হলে সেই সীমা ৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এগুলি সর্বোচ্চ সীমা, নিশ্চিত ঋণের অঙ্ক নয়। ব্যাঙ্ক বা এনবিএফসি তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কম টাকা অনুমোদন করতে পারে। 
WBPAY+1

৩. কত টাকা EMI দিতে হবে? বেতনের অঙ্ক ধরে হিসাব

দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল EMI বা মাসিক কিস্তি। নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে সব ঋণদাতা মিলিয়ে কর্মীর মাসিক EMI তাঁর নেট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

সেই হিসাবে বেতনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ মাসিক EMI-র সীমা হবে:
মাসিক নেট বেতন    সর্বোচ্চ মাসিক EMI
২০,০০০ টাকা    ১০,০০০ টাকা
৩০,০০০ টাকা    ১৫,০০০ টাকা
৪০,০০০ টাকা    ২০,০০০ টাকা
৫০,০০০ টাকা    ২৫,০০০ টাকা
৬০,০০০ টাকা    ৩০,০০০ টাকা

ধরা যাক, কোনও কর্মীর নেট বেতন ৪০ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে তাঁর সর্বোচ্চ ক্রেডিট লিমিট ১২ লক্ষ টাকা হলেও মাসিক EMI ২০ হাজার টাকার বেশি হতে পারবে না। একইভাবে ৬০ হাজার টাকা নেট বেতনের কর্মীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ EMI-র সীমা ৩০ হাজার টাকা।

তবে এই হিসাব থেকে নির্দিষ্ট ঋণের মাসিক কিস্তি বা মোট সুদের অঙ্ক বলা সম্ভব নয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের সুদের হার এবং অন্যান্য চার্জ ঋণদাতা সংস্থা নির্ধারণ করবে। টাকা দেওয়ার আগে কর্মীকে কী-ফ্যাক্ট স্টেটমেন্ট বা KFS-এর মাধ্যমে সুদের হার, বার্ষিক শতাংশ হার (APR) এবং অন্যান্য খরচ জানাতে হবে। 
WBPAY

৪. কত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হবে?

দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের ক্ষেত্রে পরিশোধের মেয়াদ রাখা হয়েছে ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মাস বা ৫ বছর। তবে কোনও কর্মীর অবসরের তারিখ যদি তার আগেই হয়, তা হলে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ অবসরের তারিখ অতিক্রম করতে পারবে না।

অর্থাৎ, কেউ ৫ বছরের জন্য ঋণ নিতে চাইলেও তাঁর অবসরের সময় যদি তার আগে চলে আসে, তা হলে সেই অনুযায়ী পরিশোধের মেয়াদ নির্ধারিত হবে। আবার ঋণ নেওয়ার পর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুরো টাকা ফেরত দিতে চাইলে কোনও ফোরক্লোজার চার্জ দিতে হবে না।

Advertisement

৫. একই সময়ে কি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দু'ধরনের অগ্রিম নেওয়া যাবে?

না। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, একজন কর্মীর ক্ষেত্রে একই সময়ে কেবল একটি অগ্রিম বকেয়া থাকতে পারবে। অর্থাৎ, কেউ দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম নিলে সেই ঋণ চলাকালীন নতুন করে স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম নিতে পারবেন না। আবার স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম বকেয়া থাকলেও একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম নেওয়া যাবে না।

আগের অগ্রিম সম্পূর্ণ পরিশোধ করার পরেই নতুন করে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। ঋণদাতা সংস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। একটি সংস্থার ঋণ পরিশোধের পর অন্য সংস্থায় সম্মতি পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের কুলিং-অফ সময়সীমা মানতে হবে। 
WBPAY

৬. কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?

অর্থ দফতরের ৩ নভেম্বর ২০২৬-এর ৪০৩৫-F(eGov) নম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাজ্য সরকারের স্থায়ী গ্রুপ এ, গ্রুপ বি, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। আপাতত যাঁদের বেতন ট্রেজারি বা পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসের মাধ্যমে HRMS/WBIFMS পোর্টালে দেওয়া হয়, তাঁরাই সরাসরি এই সুবিধা পাবেন। অন্যান্য বিভাগ ও সংস্থার কর্মীদের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। 

আবেদনের ক্ষেত্রে কর্মীর ডিজিটাল সম্মতি এবং KYC যাচাই প্রয়োজন হবে। অনুমোদিত টাকা সরাসরি কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। পরবর্তী বেতন চক্রে WBIFMS-এর মাধ্যমে কিস্তি কেটে নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা নেট বেতন পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এই প্রকল্পে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি, দু'ধরনের অগ্রিমের সুযোগ রয়েছে। তবে ৩০ গুণ বেতনের অঙ্ককে নিশ্চিত ঋণ বলে ধরে নেওয়া যাবে না। শেষ পর্যন্ত কত টাকা পাওয়া যাবে, কত সুদ দিতে হবে এবং মাসিক কিস্তি কত হবে, তা নির্ভর করবে ঋণদাতা সংস্থার অনুমোদন ও KFS-এ দেওয়া শর্তের উপর। তাই আবেদন করার আগে সুদের হার, মোট পরিশোধযোগ্য টাকা এবং EMI ভালো করে দেখে নেওয়াই জরুরি।

Read more!
Advertisement
Advertisement