Advertisement

Howrah road accident: হাওড়ার রাস্তা যেন মৃত্যুফাঁদ! গর্তে টোটো উল্টে হাত হারালেন পুরোহিত

Howrah road accident: হাওড়ার রাস্তার বেহাল দশা। রাস্তার গর্তে টোটো দুর্ঘটনায় হাত হারালেন এক ব্যক্তি। গত এপ্রিলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষরক্ষা হয়নি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলতে হল তাঁর বাঁ হাতের একটি বড় অংশ।

প্রায়শই সাইকেল, বাইক, টোটো দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায়শই সাইকেল, বাইক, টোটো দুর্ঘটনা ঘটছে। 
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 07 Aug 2026,
  • अपडेटेड 7:04 PM IST
  • হাওড়ার রাস্তার বেহাল দশা।
  • রাস্তার গর্তে টোটো দুর্ঘটনায় হাত হারালেন এক ব্যক্তি।
  • গত এপ্রিলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি।

Howrah road accident: হাওড়ার রাস্তার বেহাল দশা। রাস্তার গর্তে টোটো দুর্ঘটনায় হাত হারালেন এক ব্যক্তি। গত এপ্রিলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষরক্ষা হয়নি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলতে হল তাঁর বাঁ হাতের একটি বড় অংশ। ঘটনাটি সামনে আসতেই উত্তর হাওড়া ও লিলুয়ার রাস্তার অবস্থা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। একে রাস্তায় বড় বড় গর্ত। বর্ষায় তাতে জল জমে থাকে। গর্ত কতটা গভীর বোঝা যায় না। প্রায়শই সাইকেল, বাইক, টোটো দুর্ঘটনা ঘটছে। 

গত এপ্রিলের ঘটনা। স্থানীয় পুরোহিত শুভেন্দু চক্রবর্তী পুজো সেরে টোটোয় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জল জমে থাকায় রাস্তার গর্তটি চোখে পড়েনি। সেই গর্তে পড়েই ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় টোটো। গুরুতর জখম হন শুভেন্দু।

দুর্ঘটনার পরে তাঁকে প্রথমে হাওড়া এবং পরে কলকাতার একাধিক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, প্রথম দিকে সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় তাঁর আঙুলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের জানাতে হয়, সংক্রমণ এতটাই বেড়েছে যে হাতের একটি বড় অংশ কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।

শুভেন্দুর কথায়, দুর্ঘটনার সময় রাস্তার উপর জল জমে ছিল। সেই জলের নিচে যে গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝার কোনও উপায় ছিল না। টোটো চালকও সেটি দেখতে পাননি। গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার পরেই ঘটে বিপত্তি।

দুর্ঘটনার পর তাঁর চিকিৎসার অভিজ্ঞতাও অত্যন্ত তিক্ত বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর অভিযোগ, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে। কোথাও আঙুলে অস্ত্রোপচার হয়েছে, কোথাও প্লাস্টার করা হয়েছে। পরে ড্রেসিং চললেও সংক্রমণ কমেনি। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, হাতের ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে অস্ত্রোপচার করে হাতের একটি অংশ বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা।

Advertisement

এই ঘটনার পর উত্তর হাওড়া ও লিলুয়ার একাধিক রাস্তার অবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জি টি রোড, জে এন মুখার্জি রোড, নস্করপাড়া রোড-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই খানাখন্দে ভরা। বর্ষাকালে সেই গর্তগুলিতে জল জমে থাকায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় ড্রেন, তা বোঝাই যায় না। ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু এই একটি ঘটনাই নয়। সম্প্রতি এক সকালেই জে এন মুখার্জি রোডে আরও দু'টি টোটো উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্কুলপড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচলতি মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের প্রশ্ন, বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কেন রাস্তা মেরামতের স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না?

স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং ভিআইপিরা নিয়মিত এই রাস্তা ব্যবহার করলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ  কারও নজরে পড়ছে না। কাগজে-কলমে উন্নয়নের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে রাস্তার পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই অভিযোগ।

পুরোহিতের কাজ করেই সংসার চলত শুভেন্দুর। হাত হারানোর ফলে এখন সেই পেশা চালিয়ে যাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনা তাঁর জীবনের গতিপথই বদলে দিয়েছে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়ার বেহাল রাস্তা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। 

Read more!
Advertisement
Advertisement