
সামনেই রেজিনগরে উপনির্বাচন। এই রেজিনগরের আসনটিই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অফার করেছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কয়েক সপ্তাহ আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে ও উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। সেই হুমায়ুন এবার সটান নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। বড় সাইজের ফুলের তোড়া নিয়ে গেলেন। দীর্ঘক্ষণ মিটিংও করলেন।
'মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক আগে থেকেই মেসেজ করেছিলাম'
বুধবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন হুমায়ুন। জানালেন, তিনি নাকি শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইলে মেসেজ করে দেখা করার আর্জি জানিয়েছিলেন। হুমায়ুনের কথায়, 'মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক আগে থেকেই মেসেজ করেছিলাম, যে ওঁর সঙ্গে একবার দেখা করতে চাই। উনি আমায় নবান্নে সময় দিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে সন্ধে ৬টা নাগাদ দেখা হয়৷ মুর্শিদাবাদ জেলার উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়।'
শুভেন্দুকে একদা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন
এই হুমায়ুনই গত মে মাসে শুভেন্দু অধিকারীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'আমি যে দিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব, সে দিন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করব যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না।' এরপরেই বিধানসভায় হুমায়ুনকে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু। বলেন, 'ওঁর নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা আছে। যেমন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় স্থান করেছেন। অ্যাজেন্ডা ছিল, ১৩৫ জন বিধায়ককে জেতাবেন। মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের হবেন, আর উনি উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন। এখনও যেটা করছেন, উপনির্বাচনে ছেলেকে ৭২ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগর থেকে জেতানোর জন্য করছেন। এগুলো মনের কথা নয়, আমি জানি।'
রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপি-র দায়িত্বে প্রবাল
এই সব ঘটনার পরেই বুধবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাত সেরে বেশ গদগদ দেখাল হুমায়ুন কবীরকে। বস্তুত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদে ভাল ফল করেছে বিজেপি। মুর্শিদাবাদে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য দলের রাজ্য সহ-সভাপতি প্রবাল রাহাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রবাল পুরনো রাজনীতিবিদ। বাম জমানায় তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকে (ফব) করতেন। রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী তথা ফব শীর্ষনেতা কমল গুহের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। সংগঠনের কাজে তিনি দক্ষ বলেই পরিচিত।