Advertisement

‘অভিষেকের নির্দেশে আমাকে সরানো হয়েছিল’, ক্ষোভ উগরে তৃণমূল ত্যাগ প্রাক্তন বিধায়কের

এদিন প্রদীপ সরকার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। চিঠিতে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। তবে পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবং স্পষ্ট করে দেন যে তাঁর সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণে নয়।

সংগৃহীত ছবিসংগৃহীত ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 17 Jun 2026,
  • अपडेटेड 6:29 PM IST
  • পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসে ফের বড় ধাক্কা। দলের সাংগঠনিক রদবদলের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করলেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার।
  • মঙ্গলবার তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসে ফের বড় ধাক্কা। দলের সাংগঠনিক রদবদলের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করলেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। মঙ্গলবার তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুধবারই তিনি সেই পদ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে দল থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত জানান।

এদিন প্রদীপ সরকার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। চিঠিতে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। তবে পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবং স্পষ্ট করে দেন যে তাঁর সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণে নয়।

খড়গপুরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় নিজের কার্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি সরিয়ে দেন প্রদীপ। এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সদ্য মনোনীত জেলা সভাপতি অজিত মাইতি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদীপ সরকার অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে খড়গপুর পুরসভার পুরপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, বিষয়টি সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবগত ছিলেন না এবং আজ পর্যন্ত তাঁকে অপসারণের কারণও জানানো হয়নি।

এদিন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়গপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রশংসা করেন। যদিও ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

প্রদীপ বলেন, 'তৃণমূল ছেড়েছি মানেই রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছি না। কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাব। ভবিষ্যতে কী হবে, তা সময়ই বলবে।'

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়াকে নিজের নেত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রদীপের কথায়, 'জুন মালিয়ার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি তাঁকেই আমার নেত্রী মনে করি।'

Advertisement

পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের পরাজয়ের নেপথ্যে দলেরই একাংশের অন্তর্ঘাত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, 'যেখানে নিজের দলের মধ্যেই বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়, সেখানে থেকে লাভ কী?'

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়াসহ তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ ত্রিপুরাভিত্তিক রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। সেই আবহেই প্রদীপ সরকারের দলত্যাগ এবং জুন মালিয়াকে নেত্রী হিসেবে ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement