
প্রতিবছরই নিয়ম করে দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল দেয় সিপিআইএম। এমনকী তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালেও বামেদের সেই রীতি চলেছে। তবে এবার যদি সিপিআইএম-কে দুর্গোপুজোর সময় বইয়ের স্টল দিতে হয়, তাহলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়ে দিলেন, শারদোৎসবের বদলে দুর্গাপুজো লিখতে হবে। তাহলেই স্টল দেওয়া হবে। অন্যদিকে যেই সব স্টলে দুর্গাপুজো লেখা হবে না, তাদের স্টল করতে দেওয়া যাবে না।
আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'যে সমস্ত তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজো প্রাঙ্গণে বইয়ের স্টল দিতে আসবেন, তারা যদি শারদোৎসব-এর জায়গায় স্পষ্টভাবে দুর্গাপুজো না লেখেন, তবে তাঁদের একটিও স্টল করতে দেওয়া যাবে না।'
তাঁর মতে, কমিউনিস্টরা দুর্গাপুজোকে সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেই মনে করে। তাই তারা দুর্গাপুজোর বদলে শারদোৎসব লিখে থাকে। তবে এবার শারদোৎসব লিখলে কোনও স্টল দিতে দেওয়া হবে না, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি চান, শারদোৎসব কিংবা শারদ সংখ্যা থেকে বেরিয়ে আসুক বাংলা।
সিপিআইএম নিয়ে বিরাট ক্ষোভ
আজ বিধানসভায় বামেদেরকে একের পর এক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, সিপিআইএম-এর সময়ে সাধারণ মানুষের 'টাকায় মেরে' আড়াই হাজার পার্টি অফিস খোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৩৪ বছরে সিপিআইএম কর্মীর পরিবারের সকলে সরকারি চাকরি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। আর এই সব ফাইল তিনি খুলবেন বলেও আজ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এখানেই শেষ না করে তিনি যাদবপুর নিয়েও বামেদের আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে কিষেনজি জিন্দাবাদ স্লোগান লেখা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান ওঠে। আর এই সব তাঁর সরকার বরদাস্ত করবে না। বরং এমন পরিস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বামপন্থী অধ্যাপকদের আক্রমণ
এ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বিল সম্পর্কে বলতে গিয়ে বামপন্থী অধ্যাপকদের আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কিছু অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ে 'পার্টি' করেন। কথায় কথায়, মার্ক্সবাদ, সমাজবাদ, লেলিনবাদ নিয়ে সরব হন। আর এই সব অধ্যাপকদের পশ্চিমবাংলায় নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সফার করা হবে বলে জানান তিনি। এখন দেখার এই প্রক্রিয়া ঠিক কবে থেকে শুরু হয়।