
দেশের মধ্যে উত্তরাখণ্ডে প্রথম চালু হয়েছিল UCC বিল। এরপর অসম ও গুজরাতেও এই বিল চালু হয়। এবার পশ্চিমবঙ্গেও এই বিল লাগু হতে চলেছে। সোমবার বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল বা UCC বিল পেশ করতে পারে বাংলার বিজেপি সরকার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে বিলটি পেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার বিল পেশের পরে তা নিয়ে বিতর্ক হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বিলটি পাশ হয়ে যাবে বাংলায়।
UCC বিলটা ঠিক কী?
সহজে বললে, ধর্ম-ভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের বদলে এক এবং অভিন্ন আইন লাগু করা হয় এই বিলে। অর্থাত্ প্রত্যেক দেশবাসীর জন্য সমান আইন। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও আলাদা আইন থাকবে না। বর্ণ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য বিয়ে, ডিভোর্স, উত্তরাধিকার, দত্তক সন্তান গ্রহণ এবং সম্পত্তির অধিকারের মতো ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়গুলি একই নিয়মে নিয়ন্ত্রিত হবে। কোনও আলাদা আইন থাকবে না।
বিয়ে এবং লিভ ইন রিলেশনশিপের নিয়মে বিরাট বদল
পশ্চিমবঙ্গে এই বিল লাগু হতে চলেছে। এরপরই বিয়ের নিয়মে বড় বদল হতে পারে। বিয়ের ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হবে। এমনকী লিভ ইন রিলেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। অর্থাত্ লিভ ইন রিলেশনেও সরকারকে জানাতে হবে।
এখন প্রশ্ন হল, দেশে বা বিদেশে থাকলেও কি লিভ ইন সম্পর্কে জানাতে হবে রাজ্যের সরকারকে?
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অধীনে লিভ-ইন রিলেশনশিপ রেজিস্ট্রেশন করার নিয়মটি নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। আসুন দেখে নেওয়া যাক উত্তরাখণ্ডের ইউসিসি আইন ঠিক কী বলছে?
উত্তরাখণ্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হলে সেই রাজ্যের ইউসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে বা ভারতের বাইরে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলেও সম্পর্কটি ওই রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক।
এই আইন অনুযায়ী, লিভ-ইন সম্পর্কে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যে যদি রেজিস্ট্রেশন না করা হয়, তবে ৩ মাস পর্যন্ত জেল বা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এছাড়া আপনি অন্য কোনও রাজ্যে থেকে যদি উত্তরাখণ্ড রাজ্যে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে শুরু করেন, তাহলেও সেখানে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এটাই হল নিয়ম।
যদিও এই নিয়ম নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও এই বিল লাগু করেনি। তাই এতক্ষণ যা বলা হল, সবটাই জল্পনা।