
অবশেষে জালে ফলতার 'পুষ্পা'। নেপাল থেকে জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করেছে STF। জানা গিয়েছে, নেপালে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর এক সহযোগীর মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে আস্তানা পর্যন্ত পৌঁছয় তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জাহাঙ্গির পর্যন্ত পৌঁছে যান তাঁরা। তাঁর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস, ভয় দেখানো এবং একাধিক হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার করে জাহাঙ্গির খানকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
ভোটারদের ভয় দেখানো
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। ভোটারদের ভয় দেখানো হয়, EVM-কে সেলোটেপ মেরে দেওয়া হয় BJP-CPIM প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকে। নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগের তির ছিল তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের দিকেই। বিরোধীদের দাবি ছিল, তাঁর নির্দেশেই ভোটে কারচুপি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ৭টি FIR-ও ছিল। এছাড়াও এলাকায় সন্ত্রাস ও তোলাবাজিরও অভিযোগ ছিল 'পুষ্পা'-র বিরুদ্ধে।
'সিংঘম'-এর এন্ট্রি
ফলতায় উত্তরপ্রদেশ থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়ে আসা হয় দুঁদে IPS অজয় পালকে। জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর বাড়ি ও পার্টি অফিসে কড়া নজর রাখা হয়। তবে হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও জাহাঙ্গির খান কোনওমতেই 'ঝুঁকতে' রাজি ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, 'উনি সিংঘম হলে আমিও পুষ্পা'।
পুননির্বাচন
বরাবরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত বলে পরিচিত ছিলেন জাহাঙ্গির। ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল। সে সময়ে অভিষেককে বলতে শোনা গিয়েছিল, 'দিল্লির কোনও বাবাও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে আঁচড় কাটতে পারবে না।' কিন্তু পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।
সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতা গড়ার। আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’
ফলাফল
গত লোকসভা নির্বাচনে ফলতা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় লিড পাইয়ে দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। অথচ পুনর্নির্বাচনের প্রচারে একবারও অভিষেককে তাঁর পাশে দেখা যায়নি। গত ২৪ মে নির্বাচনের ফল বেরোলে দেখা যায়, ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে BJP। ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে CPIM। আর ৭৭৮৩টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন জাহাঙ্গির।