
এ রাজ্য থেকে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। যতই পুলিশি নজরদারি থাক না কেন, আইনের চোখতে ধূলো দিয়ে এ রাজ্যে বেআইনি অস্ত্র ঢুকেই পড়ে। সেই সমস্ত ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্য ফেলে দেয় গোটা এলাকায়। এবার বেআইনি অস্ত্র-সহ গ্রেফতার এক তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সদস্য ও তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী।
চলতি মাসেই রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের বড়সড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বেআইনি অস্ত্রের হদিশ পাওয়া গেল। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার অন্তর্গত খাকুরদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য সৈয়দ আহমেদ বৈদ্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মিরাজ খানকে গোঁড়ের হাট এলাকা থেকে বেআইনি অস্ত্র ও কর্তুজ-সহ গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ৭ এমএম পিস্তল, ১০ রাউন্ড কার্তুজ ও ২টি লোডেড ম্যাগাজিন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই অস্ত্র তারা কোথায় ও কীভাবে পেল তা খতিয়ে দেখছে জয়নগর থানার পুলিশ।
কিছুদিন আগেই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এই সাফল্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান যে, রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এই সমস্ত মারণাস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দিকে আঙুল তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিগত জমানায় বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের বেআইনি অস্ত্র মজুত করা হতো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্মমভাবে সন্ত্রাস চালাতে তা ব্যবহার করা হতো। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ এবং বসিরহাট জেলা পুলিশ যৌথভাবে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ও কুমারখালির সরবেড়িয়া বাজার সংলগ্ন একাধিক এলাকায় এই চিরুনি তল্লাশি চালায়।
শুভেন্দু আরও বলেন, আগের সরকারের আমলে এই ‘হিংসার সংস্কৃতি’র বলি হয়েছেন বহু বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নেতা-কর্মীরা, যাঁরা তদানীন্তন ‘স্বৈরাচারের’ বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন। সেই অন্ধকারের দিন এখন অতীত দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমাদের সরকার রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে রাখা প্রতিটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র খুঁজে বের করা এবং তা উদ্ধার করার কাজ আমরা লাগাতার চালিয়ে যাব।" এই বড়সড় সাফল্যের জন্য তিনি রাজ্য পুলিশ ও এসটিএফ-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে রাজ্য থেকে অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস পুরোপুরি নির্মূল করা হবে।
রিপোর্টার-প্রসেনজিৎ সাহা