Advertisement

Junput Missile Testing Range: জুনপুটে DRDO ঠিক কী করবে? প্ল্যানটা বোঝালেন বিশেষজ্ঞ

Junput Missile Testing Range: পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে। সেই খবর এর মধ্যেই অনেকে জেনে গিয়েছেন। কিন্তু এই Test Range আসলে কী?

পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে।পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে।
সৌমিক মজুমদার
  • কলকাতা,
  • 18 Sep 2026,
  • अपडेटेड 8:04 PM IST
  • পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে।
  • Test Range হল একটি বড় এবং নিয়ন্ত্রিত এলাকা।

Junput Missile Testing Range: পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে। সেই খবর এর মধ্যেই অনেকে জেনে গিয়েছেন। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা DRDO। তাদের মেগা প্রোজেক্ট। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে এই কেন্দ্র তৈরি হবে। তবে জুনপুটের এই প্রকল্পকে শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে দেখলে ভুল হবে। আসলে একটি Test Range বা পরীক্ষাকেন্দ্রের কাজ অনেক বড়। নতুন কোনও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হওয়ার পর সেটি বাস্তব পরিস্থিতিতে ঠিকঠাক কাজ করবে কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার। সেই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ এবং আধুনিক পরিকাঠামো।

Test Range আসলে কী?
সহজ ভাষায়, Test Range হল একটি বড় এবং নিয়ন্ত্রিত এলাকা। সেখানে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও ডিফেন্স সরঞ্জামের পরীক্ষা করা যায়। তার গতি, গতিপথ, উচ্চতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ডেটাও মাপা হয়।

DRDO-র নথি বলছে, একটি মিসাইল টেস্ট রেঞ্জে রাডার, টেলিমেট্রি, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম-সহ বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের উড়ানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় কোনও সমস্যা হলেও সেই তথ্য পরবর্তী গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

অর্থাৎ, পরীক্ষাকেন্দ্র শুধু ‘মিসাইল ছোড়ার জায়গা’ নয়। এটি গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তির উন্নতির অপরিহার্য পরিকাঠামো।

জুনপুট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির মধ্যে ওড়িশার চাঁদিপুর এবং আবদুল কালাম দ্বীপ অন্য়তম। চাঁদিপুরে DRDO-র Integrated Test Range বা ITR রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়।  

জুনপুটে নতুন টেস্ট সেন্টার তৈরি হলে ভারতের হাতে আরও একটি পরীক্ষার পরিকাঠামো আসবে। এতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরীক্ষা করার ক্ষমতা বাড়বে।

কেন আরও Test Range দরকার?
ইসরোর গবেষক সুশোভন দাস জানালেন, 'একটি নতুন রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করলেই তো হবে না। সেটিকে বার বার পরীক্ষা করতে হয়। পরীক্ষার সময় শুধু সেটি উড়ল কি না দেখলে হবে না। কোথায় কতটা গতি হল, পথ থেকে কতটা সরল, কোন যন্ত্র কীভাবে কাজ করল, সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কোনও পরীক্ষায় গণ্ডগোল হলেও সেই তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।' 

Advertisement

তিনি আরও বলেন, 'বড় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আছে, এমন যে কোনও দেশেরই প্রচুর Test Range থাকে। আমেরিকায় এমন একটি জায়গা আছে, তার নাম White Sands Missile Range। বিশাল এলাকা। সেখানে কেউ ঢুকতে পারে না। এই এলাকাতেই বছরে হাজার-হাজার পরীক্ষা চালানো হয়। আমেরিকা জুড়ে এমন বহু টেস্ট রেঞ্জ রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও একই ভাবে একাধিক আধুনিক পরীক্ষাকেন্দ্র দরকার।'

বিজ্ঞানীর মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লে গবেষকরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির টেস্টিংয়ের সুযোগ পান। অনেক সময় একটি টেস্টিং সেন্টার আগে থেকে ব্যস্ত থাকলে, দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। আরও টেস্ট রেঞ্জ থাকলে সেই সমস্যা কমবে। 

শুধুই যে অস্ত্র তৈরির জন্য়, তা কিন্তু নয়
Test Range-এর গুরুত্ব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে তৈরি হওয়া রাডার, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এবং ডেটা অ্যানালিসিস করা হবে। 
চাঁদিপুরে রাডার, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং টেলিমেট্রি ব্যবহার করে মিসাইলের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়।  

বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিতে পরিকাঠামো জরুরি
আমেরিকার White Sands Missile Range-এ সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, শিল্প সংস্থাও পরীক্ষা চালায়। মাঝে মাঝে অন্য দেশকেও সেখানে পরীক্ষা চালাতে দেওয়া হয়। সেখানে বছরে ৩,০০০-এর বেশি পরীক্ষা হয়।

ফলে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি এবং পরীক্ষার জন্য আগামিদিনে আরও এমন বড় পরিকাঠামোর প্রয়োজন বাড়বে। জুনপুট সেই পরিকাঠামো সম্প্রসারণের প্রথম ধাপ বলা যেতে পারে।  

Read more!
Advertisement
Advertisement