
মমতার ঘর খালি করে এবার ঋতব্রত শিবিরে যোগদান কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের। ঋতব্রতের তৃণমূলে যোগ দিয়েই অভিষেকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন মদন। তিনি দাবি করেন, "ইডির থেকে বেশি ভয়ঙ্কর এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)। একুশে জুলাই প্রসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের বিরোধিতা করেন তিনি।
মদন বলেন, "বিড়লা তারামণ্ডলের বাইরে আড়াই হাজার জমায়েত নিয়ে একুশে জুলাই করার অনুমতি পেয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। ওখানে তো বাদাম, মুড়িওয়ালাই এতগুলো থাকে। যাইহোক সম্মানটা তো বাঁচল। চ্যালেঞ্জ করে বলছি আসল তৃণমূল যদি ডাক পায় এখনও ব্রিগেড করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।"
মমতার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন মদন। মমতার রাজনৈতিক যাত্রা এবং বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন মদন। শেষ পর্যন্ত তাঁর হাত ছাড়লেন তিনিও। এর কারণও জানিয়েছেন মদন।
বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। ঋতব্রতের পাশে বসে ঘোষণা করেন, 'বাবার দেওয়া মদন মিত্র নাম আর কামারহাটির বিধায়ক পদ বাদ দিয়ে তৃণমূলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলাম।' বুধবার নিজের ভবানীপুরের বাড়ি থেকে সোজা ড্রাইভ করে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে এসে ঢোকেন মদন। এরপর ঋতব্রতের দলে যোগ দিয়ে বলেন কালীঘাট তৃণমূল ছাড়ার কারণ।
কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন?
মদন বলেন, 'যে ভাবে বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস শক্তিশালী হয়ে উঠছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এই রাস্তা ছাড়া কোনও উপায় নেই।' এরপরই মদন বলেন, 'মমতা আমাদের সকলের নেত্রী ছিলেন। ওঁর প্রতি এখনও সম্মান আছে। ওঁর ছবি আমার হৃদয়ে আছে। কিন্তু আমরা অভিষেককে বলেছিলাম, কয়েকদিনের জন্য দল ছেড়ে দিন। ৬ মাস বা ১ বছর দূরে চলে যান। আমরা দলটাকে আবার তৈরি করি, তারপর আপনি এসে নিজের পদ নিয়ে নেবেন। তবে উনি রাজি হননি। দল ভেঙে যাচ্ছে, সকলকে মরতে বসেছে অথচ অভিষেককে বাঁচানোর চক্করে সবাইকে মরতে দেওয়া হচ্ছে। দল তো সবার, কারও একার তো নয়। খালি অভিষেকের জন্য দলের সর্বনাশ হল। একটা মানুষের জন্য কি গোটা জাতকে বিসর্জন দেব নাকি? দলের সেনাপতি যদি দলকে ঠিকমতো চালাতে না পারে, আজ গোটা দল ভয়ে কাঁপছে। চলুন তো আমার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে ধর্মতলায়, দেখি আমায় কে ডিম মারে।'