Advertisement

Kaushiki Amavasya Tarapith Bhog: 'মাছ-মাংস-মদিরা ছাড়া মায়ের পুজো হয় নাকি!' ধীরেন্দ্র-নিদান উড়িয়ে দিল তারাপীঠ মন্দির

বাগেশ্বর বাবা এসে পুজোর সময়ে ননভেজ খাওয়া থেকে হিন্দুদের বিরত থাকার নিদান দিয়েছিলেন। সেই নিদান উড়িয়ে দিল তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ। চিরাচরিত নিয়ম মেনেই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ মন্দিরে মা তারার ভোগে মাছ-মাংস-মদিরা।

কৈশিকী অমাবস্যার ভোগে কী কী? কৈশিকী অমাবস্যার ভোগে কী কী?
Aajtak Bangla
  • তারাপীঠ ,
  • 10 Sep 2026,
  • अपडेटेड 11:43 AM IST
  • কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠের ভোগে মাছ-মাংস-মদিরা
  • বাগেশ্বর বাবার নিদান উড়িয়ে দিলেন কর্তৃপক্ষ
  • তারাপীঠ মন্দিরে কী কী বিশেষ আয়োজন?

প্রতিবারের মতো এবার বিশেষ তিথিতে তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা পালিত হচ্ছে। সঙ্গে ধুমধাম করে আয়োজন হচ্ছে তারা মায়ের আমিষ ভোগের। পাতে যেমন থাকবে শোল মাছ, তেমনই থাকবে বলির পাঁঠা। সঙ্গে থাকবে মদিরাও। বাগেশ্বর বাবার পুজোয় নিরামিষ খাওয়ার নিদানকে এক ফোঁটাও আমল দিতে রাজি নন তারাপীঠ কর্তৃপক্ষ। তাঁরা বলছেন, 'বিবেকানন্দের উপরে কেউ নন।'

প্রচলিত রয়েছে এই কৌশিকী অমাবস্যার তিথিতেই তারাপীঠ মহাশ্মশানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামদেব। এদিন প্রচুর সংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে। মা তারার দর্শন করতে এবং ভোগের প্রসাদ খেতে হাজির হন কালীভক্তরা। বিশ্বাস রয়েছে, এই বিশেষ দিনে মা তারার কাছে মন থেকে কিছু চাইলে, কাউকে খালি হাতে ফিরতে হয় না। সকাল থেকেই রাজবেশে সাজানো হয় মা তারার মূর্তি। চলে বিশেষ আরতি। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১১ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে কৌশিকী অমাবস্যার তিথি। চলবে শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। বিশেষ পঞ্চ ব্যঞ্জন ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় তারাপীঠের মা তারাকে। 

কী কী থাকবে মায়ের ভোগের থালায়?
তারা মায়ের ভোগের থালায় থাকবে শোল মাছ পোড়া, ৭ রকমের ভাজা, কাতলা মাছ ভাজা, পোলাও, বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস এবং ৫ রকমের মিষ্টি। সকাল থেকেই তারাপীঠ মন্দিরের হেঁশেলে চলছে সেই এলাহি ভোগের আয়োজন। সঙ্গে দুপুরের ভোগেই দেওয়া হয় মদিরা। 

ভোরবেলা মঙ্গল আরতির পর নিবেদন করা হয় ফল, মিষ্টি, ক্ষীর। একে বলা হয় শীতল ভোগ। এই পুণ্য তিথিতে দেবীর উদ্দেশ্যে আতপ চাল, নারকেল, ঘিয়ের প্রদীপ, ঘি এবং ১০৮টি রক্তজবা নিবেদন করা হয়। এরপর দুপুরে পঞ্চ ব্যঞ্জন ভোগ। রাতে মন্দির চত্বরেই মহাযজ্ঞ ও নিশিপুজোর আয়োজন করা হয়। শুধুমাত্র মন্দিরের সেবায়েতরা এই মহাযজ্ঞে অংশ নেন।

বাগেশ্বর বাবার নিদান সম্পর্কে কী বলছেন তারাপীঠ কর্তৃপক্ষ?
তারাপীঠের পুরোহিত সজল কুমার ভট্টাচার্য, মিলন পাণ্ডা বলেন, 'বাইরে থেকে সে উনি কী বললেন তাতে বাঙালির চিরাচরিত রীতির কোনও পরিবর্তন হবে না। বাঙালি মাছে ভাতে। বাঙালি আমিষ খাবেই। বিবেকানন্দের উপরে কেউ নন। আমাদের তারাপীঠে মাকে আমিষ ভোগই দেওয়া হচ্ছে। মাছ, মাংস, মদিরা সবই থাকছে।'

Advertisement

কড়া নিরাপত্তায় মোড়া তারাপীঠ
তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনও টাটকা।  কৌশিকী অমাবস্যার মতো বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাই কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ২০০ জন দমকল কর্মী ডিউটিতে থাকছেন। রাখা হয়েছে ৮টি বিশেষ রোবট ফায়ার টেন্ডার। পাশাপাশি ২৫ সদস্যের বিপর্যয় মোকাবিলা টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ উদ্ধারকারী দলও প্রস্তুত থাকবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন ৪০০০ পুলিশ কর্মী। নজরদারির জন্য থাকছে ১১টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। ড্রোন ও ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার মাধ্যমেও বিশেষ এলাকায় নজরদারি চালানো হবে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement