
Load shedding Bengal: কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ের অভিযোগ। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কোথাও ভোল্টেজ কমে যাচ্ছে। কোথাও আবার মাঝরাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিশেষ করে শহরতলি, মফস্বল এলাকাগুলিতে সমস্যা বেশি বলে জানা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ দফতরের দাবি, অতিরিক্ত এসি ব্যবহার ও জনঘনত্বের জেরেই আচমকা লোডের চাপ বেড়ে গিয়েছে।
গত কয়েক বছরে বাংলায় গরমের তীব্রতা অনেকটাই বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহারও। আগে একটি পাড়ায় হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতে এসি থাকত। এখন প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত বাড়িতেই এসি। কোনও কোনও বাড়িতে একাধিক। বেড়েছে আবাসন, ফ্ল্যাট এবং নতুন হাউজিং কমপ্লেক্স। ফলে রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা আচমকাই বেড়ে যাচ্ছে।
রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা WBSEDCL-এর এক আধিকারিক জানালেন, 'আগে যে পরিমাণ লোড মাথায় রেখে কোনও এলাকার ট্রান্সফর্মার বসানো হয়েছিল, এখন বাস্তবে তার থেকে অনেক বেশি চাপ পড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সবাই একসঙ্গে এসি চালু করায় হঠাৎ করেই বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে নতুন এসি বসানোর আগে বিদ্যুৎ সংস্থাকে জানানো হচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় কতটা অতিরিক্ত লোড তৈরি হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব আগাম পাওয়া যাচ্ছে না। ওই আধিকারিকের কথায়, 'অনেক আবাসনে একসঙ্গে ২০-৩০টি নতুন এসি বসছে। কিন্তু সেই তথ্য আপডেট হচ্ছে না। এর ফলে ট্রান্সফর্মার এবং কেবলের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।'
বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, কলকাতার উপকণ্ঠ, নিউ টাউন, বারাসত, সোদপুর, সোনারপুর, হাওড়া এবং হুগলির কিছু অংশে গত কয়েক বছরে দ্রুত জনঘনত্ব বেড়েছে। নতুন ফ্ল্যাট, আবাসন এবং বহুতল তৈরি হওয়ায় একই এলাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। যে জমিতে আগে ২-৩ জন থাকতেন, সেখানেই এখন ৩০-৪০ জনের বাস। কিন্তু বহু জায়গায় পুরনো পরিকাঠামো দিয়েই সেই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সমস্যা শুধু চাহিদা বৃদ্ধির নয়। ব্যবহার পদ্ধতিও বড় কারণ। রাতের দিকে প্রায় একই সময়ে এসি, ফ্রিজের মতো একাধিক হাই-পাওয়ার ডিভাইস চালু থাকছে। হঠাৎ 'পিক আওয়ার লোড' অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ট্রিপ করছে ফিডার। গরম হয়ে যাচ্ছে ট্রান্সফর্মার।
WBSEDCL-এর আধিকারিকের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক এলাকায় নতুন ট্রান্সফর্মার বসানো হচ্ছে। পুরনো লাইনের আপগ্রেডেশনও চলছে। তিনি বলেন, 'আমরা পরিকাঠামো উন্নত করার কাজ করছি। কিন্তু বিদ্যুতের ব্যবহার যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তাতে গ্রাহকদেরও সচেতন হতে হবে। প্রয়োজন না হলে একসঙ্গে সব হাই ডিমান্ডিং বৈদ্যুতিক যন্ত্র না চালানোই শ্রেয়। সার্বিকভাবে সবার মধ্যে সচেতনতা না হলে এর সুরাহা কঠিন।'
তবে সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, গরমের সময়ে লোডশেডিং নতুন সমস্যা নয়। প্রতি বছরই একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে রাতের দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রবল ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রবীণ এবং শিশুরা।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনেও গরম এবং আর্দ্রতা দুই-ই বেশি থাকবে। ফলে এসির ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পরিকাঠামোর উপর চাপও বাড়বে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।