
লোকসভায় ভেঙে খান খান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই দলের ২০ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন। তাঁরা নতুন ব্লক তৈরি করে এনডিএ-এর শরিক হতে চান বলে চিঠি দিয়েছেন। আর লোকসভায় এই ভাঙনের পিছনে নাকি দীর্ঘদিনের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তাই লোকসভায় তৃণমূল ভাঙানোর এই প্রক্রিয়াকে ইতিমধ্যেই 'কাকলি মডেল' বলে ডাকতে শুরু করেছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন কাকলি। তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর পথপ্রদর্শক, তাঁর নেত্রী ও মেন্টর। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের অচলাবস্থার জন্যই তিনি নিজেকে আলাদা করে নিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার পথপ্রদর্শক, আমার মেন্টর এবং আমার নেত্রী। গত ৪০ বছর ধরে আমি তাঁর সঙ্গে রয়েছি। তিনি ক্ষমতায় না থাকলেও আমি তাঁর পাশেই ছিলাম। ২০০৯ সালের আগে আমি পাঁচটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। সেই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। তাই এখন এটা বলা অর্থহীন যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় নেই বলেই আমি দল ছেড়েছি। বিষয়টা মোটেও তেমন নয়।'
তাঁর আরও দাবি, মমতা যখন ক্ষমতায় ছিলেন না, তখনও তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু সেই সময় দলের একটি জনমুখী নীতি ছিল। দল রাজ্যের গরিব মানুষের স্বার্থে কাজ করত। তবে গত ৩-৪ বছরে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়েছে। উন্নয়নের কাজ প্রত্যাশা মতো হয়নি। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম সামনে এসেছে, যা আজ প্রমাণিতও হচ্ছে। আর সেই কারণেই তিনি দল থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চলচ্চিত্র শিল্প-সহ একাধিক ক্ষেত্র কার্যত ভেঙে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল না। সরকারি আধিকারিকদের ওপর নির্দিষ্ট কিছু নেতৃত্বের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করার জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এটা কোনও রাজ্যের উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নয়।'
তাই তাঁর দাবি, 'এখন মানুষের রায়ই প্রমাণ করে দিয়েছে যে আমি এতদিন যা বলার চেষ্টা করছিলাম, তা ভুল ছিল না। আমরা রাজ্যের উন্নয়ন, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে চাই। সেই কারণেই আমরা আলাদাভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
মাথায় রাখতে হবে, লোকসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদের সংখ্যা ২৮ জন। তার মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী ব্লকে যোগ দিয়েছেন। আর সেই তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, সাজদা আহমেদ, খলিলুর রহমানের মতো নাম রয়েছে বলে সূত্রের খবর।