
মিষ্টির পাতে এবার যুদ্ধের আঁচ। বাঙালির খাবারের শেষ পাতে মিষ্টি পড়বে কিনা তা নিয়ে সংশয়। গ্যাসের অভাবে দোকান বন্ধের নোটিশ পড়েছে একাধিক মিষ্টির দোকানে। বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে চন্দননগরের বিখ্যাত জলভরা সন্দেশ।
চন্দননগরের বিখ্যাত জলভরা সন্দেশ এখনও পাওয়া যাচ্ছে। বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করে ঐতিহ্যের জলভরা ক্রেতার হাতে তুলে দিতে চাইছে সূর্য মোদক। ১৮১৮ সালে চন্দননগরে জলভরা তৈরি করেছিলেন সূর্য মোদক। জামাই ঠকানো মিস্টি নামে পরিচিত ছিল এই তালসাঁস আকৃতির সন্দেশ। উপরে কড়া পাকের সন্দেশের ভিতরে রসভরা। খেতে সুস্বাদু, মজুত থাকেও অন্য মিস্টির থেকে বেশি দিন। সেই প্ৰিয় মিষ্টি আজ দুই শত বর্ষ পেরিয়েছে। এখনো সমান চাহিদা রয়েছে এই জলভরার।
তবে আমেরিকা, ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি গ্যাসে টান পড়েছে। আর তার প্রভাব এসে পড়েছে সরাসরি হেঁসেলে। হোটেল রেস্তোরাঁর পাশাপাশি মিষ্টির দোকান গুলোতে তাদের প্রতিদিনের মিষ্টি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। অনেক নামি মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জলভরা সন্দেশ তৈরি করে সূর্য মোদকের বংশধর শৈবাল মোদক। তিনি জানান, মাসে পাঁচটা কমার্শিয়াল সিলিন্ডার লাগে তাঁর কারখানায়। সেখানে একটা সিলিন্ডারে কাজ চলছে এখন। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে কী হবে সেটাই হচ্ছে সমস্যা। তার ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় মানুষ নির্ভর করেন। তাদের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কেন্দ্র সরকার এই সংকটকালে ডিজেল এবং কেরোসিন ব্যবহারের উপরে ছাড় দিয়েছে। শৈবালবাবু বলেন, আমরা গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেলের উনুন ইনস্টল করছি। অন্য মিষ্টি বিশেষ করে রসের মিষ্টি আর তৈরি করা যাবে না এই সময়। জলভরাটা যাতে বন্ধ না হয় সেই চেষ্টা করব।
যারা মিষ্টি কিনতে আসেন এই দোকানে, তাঁরাও বলছেন জলভরা আর চন্দননগর সমার্থক। তাই সেই মিষ্টি যাতে মানুষ পান সেদিকটা দেখা উচিত।
হুগলির বিখ্যাত মিষ্টির দোকানের তালিকায় রয়েছে মৃত্যুঞ্জয় অ্যান্ড সন্স। যুদ্ধের আঁচ পড়েছে সেখানেও। গ্যাস না পাওয়ায় বন্ধ করে দিতে হল ছটি কাউন্টার। শ্রীরামপুর, ভদ্রেশ্বর, চন্দননগর, মানকুন্ডু এবং চুঁচুড়ায় ছটি কাউন্টার বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আরো ছয়টি দোকান চলছে কোনও মতে। তবে সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে যে কোনও সময়। ভদ্রেশ্বরের মৃত্যুঞ্জয় সরকার যে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তা আজ বেড়েছে অনেকটাই। দুটি কারখানায় বহু শ্রমিক কাজ করেন। পাশাপাশি কাউন্টার গুলিতেও অনেক শ্রমিক রয়েছেন। ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় তাঁদের সমস্যা সব থেকে বেশি। যারা মিষ্টি পছন্দ করেন মৃত্যুঞ্জয়ের রসগোল্লায় হোক, লট চমচম অথবা দই, যুদ্ধ না থামলে আপাতত সেগুলো আর পাতে পরবে কিনা তা নিয়েই রয়েছে সংশয়।