
'আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। গুলি চালিয়েছে...', এবার কালীঘাট তৃণমূলের 'পরাজিত সেনাপতি' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এহেন বড় অভিযোগ করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।
মাথায় রাখতে হবে, একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আস্থাভাজন' মদন এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এরপরই অভিষেককে নিয়ে একাধিক বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। আর সেই ট্রেন্ড বজায় রেখে রবিবারও অভিষেককে আক্রমণ করতে ছাড়েননি মদন।
তিনি বলেন, 'অভিষেককে একটা কথা বলি। আমাকে চমকে-ধমকে লাভ নেই। তুই ডায়মন্ড হারবার গিয়ে যাকে চমকাতে পারিস, আমাকে চমকাস না। কয়েক দিন আগেও আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। গুলি চালিয়েছে। আমি এগুলোকে পাত্তা দিই না। জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলি আপনারা যা বলছেন বলুন। আপনাদের চমকানিতে সিপিএম চমকাবে, বিজেপি চমকাবে। মদন মিত্র চমকাবে না।'
এছাড়া ফেসবুক লাইভে এসে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তিনি বলে, 'এই যে দিদিমণি, যুবরাজ, সবাইকে আমি চিনি। একমাত্র মদন মিত্র ছাড়া সবাই দালাল।'
এরপরই হুঙ্কার দিতে শুরু করেন মদন
মদনের দাবি, অভিষেক ক্রিমিনাল। অভিষেক খুনি। পয়সা দিয়ে খুন করান। অভিষেকের অপরাধের প্রবৃত্তি রয়েছে। যদিও তাতে মদন মিত্রকে ভয় পাওয়ানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ২১ জুলাই নিয়েও হুঙ্কার দিয়েছেন মদন।
তিনি বলেন, '২১ জুলাই সকালে দুজনের মিছিল বেরবে। একটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আরেকটা শুভেন্দু অধিকারীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও নই, শুভেন্দুরও নই। ওটা মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা। ওখানে সকালে বেশি গন্ডগোল হলে গুলি-গোলা চলবে।'
মাথায় রাখতে হবে, ২০২৬-এর ভোটের পর কার্যত ভেঙে খান খান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বিদ্রোহী হয়েছেন দলের সংখ্যাধিক্য বিধায়ক। আর সেই দলে যোগ দিয়েছেন মদনও। তারা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে অভিযোগ করছেন। পাশাপাশি নিজেদের যাবতীয় ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের উপর। তাদের দাবি, অভিষেকের জন্য দলের এই পরাজয়। দলের মধ্যে যথেচ্ছাচার চালিয়েছে অভিষেক। মানুষের উপর জুলুম চালিয়েছে। দুর্নীতি করেছে। তাই এবার ভোটে হয়েছে ভরাডুবি।