Advertisement

Mahua Moitra: ‘মমতাই আসল দল, দরকারে নতুন পার্টি গড়বেন,’ বিদ্রোহীদের একহাত মহুয়া মৈত্রর

এই প্রসঙ্গে মহুয়ার পাল্টা তোপ, “এখন যা হচ্ছে, তা গোটা দেশ দেখছে। বিজেপি এখন শুধু দল ভাঙতেই চায় না, তারা বিরোধী দলের নেতাকেও নিজেরাই বেছে দিতে চাইছে। যে রাজ্যগুলোতে তারা জিতেছে বা জিততে চায়, সেখানে বিরোধী নেতৃত্বও নিজেদের পছন্দমতো গড়ে তুলতে চাইছে।”

‘মমতাই আসল দল, দরকারে নতুন পার্টি গড়বেন,’ বিদ্রোহীদের একহাত মহুয়া মৈত্রর‘মমতাই আসল দল, দরকারে নতুন পার্টি গড়বেন,’ বিদ্রোহীদের একহাত মহুয়া মৈত্রর
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 05 Jun 2026,
  • अपडेटेड 1:09 AM IST

প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় তিন দশকে এমন নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়তে হয়নি ঘাসফুল শিবিরকে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা এই বেনজির মহাবিদ্রোহের মাঝেই এবার আসরে নামলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। দল ভাঙানো বিদ্রোহী বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাঁদের ‘সম্পূর্ণ অকেজো’ বলে দাগিয়ে দিলেন তিনি। মহুয়ার সাফ কথা, এতকাল এই নেতারা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হাওয়ায় ভেসে টিকে ছিলেন। এখন বিরোধী বেঞ্চে বসে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো ন্যূনতম রাজনৈতিক সাহস বা ক্ষমতা এদের আর নেই।

‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ভয় দেখানো এবং এজেন্সি দিয়ে চাপ প্রয়োগের ব্ল্যাকমেইল নীতি নিয়েই বিজেপি এই ভাঙন ঘটিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভয় এবং গ্রেপ্তারের জুজু দেখিয়ে বিধায়কদের জোরপূর্বক দলবদল করানো হয়েছে। সাংসদের তোপ, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে এই দলত্যাগী নেতারা বিরোধী রাজনীতি করার মানসিকতাই হারিয়ে ফেলেছেন। ইডি, সিবিআই বা পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই, তাই স্রেফ নিজেদের পিঠ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তাঁরা বিজেপির পায়ে আত্মসমর্পণ করছেন।

বিদ্রোহী শিবিরকে একহাত নিয়ে মহুয়া গর্জে ওঠেন, “এই লোকগুলো সম্পূর্ণ অকেজো। এতদিন দিদির জনপ্রিয়তার সুবিধা নিয়ে দলে ছিল। আজ তারা চাইলে নিজেদের পথে যাক। নিজেদের ‘ঋতব্রত কংগ্রেস’ গড়ুক, যা খুশি করুক। কিন্তু নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস বলবে না।” তিনি সুখেন্দুশেখর ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের সরাসরি আক্রমণ করেন।

উল্লেখ্য, বুধবারই তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য বিভাজনটি সামনে আসে। দলের ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক একজোট হয়ে বিধানসভা দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) নিজেদের দলনেতা নির্বাচিত করেন তাঁরা, যা বিধানসভার স্পিকারের স্বীকৃতিও পেয়ে যায়। তবে ঋতব্রত গোষ্ঠী এই বিদ্রোহের ঝাঁঝ কিছুটা নরম করার কৌশলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের নবগঠিত বিধানসভা দলের ‘প্রধান উপদেষ্টা’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরাই বিধানসভায় “আসল” তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেছেন।

Advertisement

এই প্রসঙ্গে মহুয়ার পাল্টা তোপ, “এখন যা হচ্ছে, তা গোটা দেশ দেখছে। বিজেপি এখন শুধু দল ভাঙতেই চায় না, তারা বিরোধী দলের নেতাকেও নিজেরাই বেছে দিতে চাইছে। যে রাজ্যগুলোতে তারা জিতেছে বা জিততে চায়, সেখানে বিরোধী নেতৃত্বও নিজেদের পছন্দমতো গড়ে তুলতে চাইছে।”

বিধায়কদের এই দলবদলের নেপথ্যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু একসময় তৃণমূলের “সৈনিক” থাকায় কোন বিধায়কের কোথায় কী দুর্বলতা রয়েছে, তা খুব ভালো করেই জানতেন। সেই অনুযায়ী বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মহুয়ার কথায়, “তিনি প্রত্যেকের দুর্বল জায়গা জানেন। একজন একজন করে এই অপারেশন চালানো হয়েছে। যেমন, মোতাবাড়ির সাবিনা ইয়াসমিনকে ভয় দেখানো হয়েছে যে মোতাবাড়ি হিংসার ঘটনায় এনআইএ (NIA) তাকে ধরবে। আবার জাভেদ খানের মতো প্রবীণদের বলা হয়েছে, ‘তোমাকে গ্রেফতার করা হবে, তোমার এলাকায় বেআইনি নির্মাণের জন্য তোমার ছেলেকেও ধরা হবে।’ প্রত্যেকের ওপর আলাদা আলাদা ব্ল্যাকমেল স্ক্রিপ্ট সাজানো হয়েছিল।”

তবে নির্বাচন কমিশন যদি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়, তবুও দল “কোনওভাবেই ভেঙে পড়ছে না” বলে জোর দিয়েছেন মহুয়া। রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়েছিলেন, তখন তিনি নিজেই কলম-কাগজে দলের প্রতীক ঘাসফুল এঁকে নিয়েছিলেন। যিনি শূন্য থেকে নিজের প্রতীক তৈরি করে লড়াইয়ের জোরে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, তিনি দরকারে আবার লড়বেন এবং নতুন প্রতীক তৈরি করবেন। আমরা পরোয়া করি না। ওরা ছবি নিক, প্রতীক নিক, যা খুশি নিক। ওরা কখনও তৃণমূল কংগ্রেস হতে পারবে না।”

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি ছিল, তাদের এই ক্ষোভ মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নয়। এই যুক্তিকে নস্যাৎ করে মহুয়া প্রশ্ন তোলেন, যদি তা-ই হয়, তবে কয়েক সপ্তাহ আগেই কেন তারা অভিষেকের চালিত তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচন লড়েছিল? অভিষেককে ঘিরে কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ বাড়ার প্রসঙ্গে মহুয়া সাফ জানান, তৃণমূল নেতৃত্ব কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবে না। তিনি বলেন, “অভিষেক শক্ত মনের মানুষ, তিনি সব সামলাতে পারবেন। তাঁর চরিত্রে আপস করার প্রবণতা নেই। তিনি জেলে যান বা অন্য যাই হোক না কেন, সবাই দেখবে বিজেপি কী নোংরামো করছে।”

এদিকে, অন্দরের খবর অনুযায়ী এই মহাবিদ্রোহী শিবিরেও নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজন বিধায়ক এখনও চান যে মমতাই তাঁদের সর্বোচ্চ নেতা থাকুন। তাঁকে যদি সুকৌশলে শুধু ‘উপদেষ্টার’ ভূমিকায় নামিয়ে আনা হয়, তবে তাঁরা নিজেদের এই বিদ্রোহের অবস্থান পুনর্বিবেচনা বা রদবদল করতে পারেন বলেও ঋতব্রতদের সতর্ক করেছেন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement