
এবারও একুশে জুলাই শহিদ দিবস পালন করছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সোমবার রাতে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা দাবি করেন, 'বিজেপির ৬০-৬৫ জন বাইকে করে এসে মঞ্চ ভাঙচুর করেছে। একটা হুলিগান বাহিনী, তাঁদের নেতৃত্ব দিয়েছে এক ক্রিমিনাল। কোর্টের অর্ডারে তিনি বাইরে আছেন। আর সেই নেতা মুখ্যমন্ত্রীর (শুভেন্দু অধিকারী) ঘনিষ্ঠ।' এই সময়ই পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দেন মমতা। পাশাপাশি আদালত অবমাননার হুমকিও দেন। যদিও মমতার এহেন অভিযোগ নিয়ে পুলিশ বা সরকার, কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি।
আসলে চলতি বছরে একুশে জুলাই নিয়ে প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মমতা। প্রথমত, একুশে জুলাইয়ের আগে তাঁরই সঙ্গ ছেড়েছেন একদা 'আস্থাভাজন' সব নেতা। দ্বিতীয়ত, এই সভা করার অনুমতি পেতেও তাঁকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সভা করার অনুমতি দেয়। এমত পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধে নাগাদ সভাস্থল পরিদর্শনে যান মমতা। সঙ্গে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
কিন্তু রাত গড়াতেই মমতার কাছে খবর আসে সভাস্থল ভাঙচুরের। সঙ্গে সঙ্গে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম ছুটে যান তিনি। এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাতেই সভাস্থলের সামনে থেকে বক্তব্য রাখেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের একুশে জুলাই বানচাল করতে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মী সমর্থকরা যাতে সভাস্থলে না আসতে পারে, সেই জন্য দেওয়া হচ্ছে হুমকি। এমনকী শহিদ পরিবারকে আটকাতেও পুলিশ তাঁদের বাড়ির বাইরে বসে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই সভাস্থলে এসে বাইক বাহিনী তাণ্ডব চালায়। ছাত্রযুবদের উপর হামলা চলে। সেই সঙ্গে তিনি সভাস্থলে বিদ্যুতের লাইন ও মাইকের কানেকশন কেটে দেওয়ার অভিযোগও করেন। মমতা বলেন, 'রাত সাড়ে দশটা নাগাদ এক ক্রিমিনালের নেতৃত্বে ৬০-৬৫ জনের বাইক বাহিনী এসে সভাস্থল ভাঙচুর করে। ছাত্র-যুবদের উপরে হামলা চালায়।'
অবমাননার মামলা
এই সময়ই আদালত অবমাননার প্রসঙ্গও তোলেন মমতা। তাঁর মতে, যেখানে কলকাতা হাইকোর্ট অর্ডার দিয়েছে, সেখানে সভাস্থলে ভাঙচুর চললেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আর তাঁতেই তিনি অবাক বলে মন্তব্য করেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী।
এরপরই সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা। দেন মামলা করার হুমকি। তিনি বলেন, 'পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে বলব। আমাদের কি পাহারা দেওয়ার জন্য বসে থাকতে হবে?'