Advertisement

কালীঘাটের বাড়ি আর অবারিত দ্বার নয়, টাইম বেঁধে দিয়েছেন মমতা, আরও একাধিক বদল

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রতিরোধ্য দুর্গ বলে পরিচিত ছিল ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। সেই বাড়ির দরজা ছিল দলীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যম, সবার জন্যই প্রায় উন্মুক্ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। রাজনৈতিক পালাবদল, নির্বাচনী পরাজয় এবং দলের একের পর এক শীর্ষ নেতার দলত্যাগের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।-ফাইল ছবিমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 16 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:44 PM IST
  • একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রতিরোধ্য দুর্গ বলে পরিচিত ছিল ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট।
  • সেই বাড়ির দরজা ছিল দলীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যম, সবার জন্যই প্রায় উন্মুক্ত।

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রতিরোধ্য দুর্গ বলে পরিচিত ছিল ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। সেই বাড়ির দরজা ছিল দলীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যম, সবার জন্যই প্রায় উন্মুক্ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। রাজনৈতিক পালাবদল, নির্বাচনী পরাজয় এবং দলের একের পর এক শীর্ষ নেতার দলত্যাগের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন।

বুধবার সকালে বেহালার পর্ণশ্রীর বাসিন্দা তৃষ্ণা সাহা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে যান। তবে তাঁকে জানানো হয়, বিকেলে নির্ধারিত সময়ে আবার আসতে হবে। বিকেল চারটের কিছু আগে তিনি চিকিৎসক স্বামীকে নিয়ে ফের আসেন। ঠিক সেই সময় বাড়ি থেকে অফিসের দিকে হাঁটছিলেন মমতা। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর হাত ছুঁতে পারলেও কথা বলার বা নিজের পরিচয় দেওয়ার সুযোগ পাননি তৃষ্ণা। 

বদলে গিয়েছে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পরিবেশ
দক্ষিণ কলকাতার এই বাড়িটি এখনও তৃণমূলের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। তবে এখন সেখানে নিরাপত্তা অনেক বেশি কড়া। একসময় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতার সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ। এমনকি নতুন সাংবাদিকরাও সন্ধেবেলায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেতেন। কিন্তু ইউপিএ-২ সরকারের সময় থেকেই সাক্ষাতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বাড়তে শুরু করে। ২০১১ সালে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গোটা এলাকাই কার্যত উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় চলে যায়।

এরপর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করেছে। এখন দিনে মাত্র একবার, বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে দর্শনার্থীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। সেই তালিকায় দলীয় নেতারাও রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশও কার্যত নিষিদ্ধ। এমনকি বাড়ির উল্টো দিকের রাস্তায় সাংবাদিক বা ক্যামেরাপার্সনদের দাঁড়াতেও দেয় না কলকাতা পুলিশ।

দল পুনর্গঠনের লড়াইয়ে ব্যস্ত মমতা
দলের এক বিধায়কের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বুধবার বিকেলেও, প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র দল ছাড়ার পর, তিনি হাওড়া জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। এর আগে বেহালা ও গার্ডেনরিচ এলাকার সংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। সেদিনই তাঁর বাড়িতে যান সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মূল আলোচনার বিষয় ছিল দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের পর সংগঠনকে কীভাবে নতুন করে শক্তিশালী করা যায়।

Advertisement

মমতা-ঘনিষ্ঠ এক বিধায়কের কথায়, 'দিন-রাত দলের কাজ নিয়েই ভাবছেন তিনি। সব জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি যাঁরা দল ছেড়েছেন, তাঁদের অনেকেও এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।'

ভরসা এখন তৃণমূল স্তরের কর্মীদের ওপর
একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও মদন মিত্রের মতো নেতারা বিরোধী শিবিরে চলে যাওয়ার পরও মমতা ভেঙে পড়েননি। বরং এখন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা সেই তৃণমূল স্তরের কর্মীরা, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নীরবে সংগঠনের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গেই মমতার পরিচয় কংগ্রেসে থাকার সময় থেকেই।
সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সভায় তাঁদেরই তিনি 'সোনার খনি' বলে উল্লেখ করেন।

এখনও অটুট সাধারণ মানুষের আবেগ
তৃণমূলের রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেও মমতার প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ কমেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন, 'যাঁরা যেতে চান, তাঁরা যেতে পারেন। যাঁরা থেকে যাবেন, তাঁরাই আমার সোনার খনি। ১৯৯৭ সালে যেমন নতুন করে শুরু করেছি, ২০০৪ সালে যেমন একা লড়েছি, তেমনই ২০২৬ সালেও নতুন করে লড়াই শুরু করার শক্তি আমার রয়েছে।'

 

Read more!
Advertisement
Advertisement