
তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। গঙ্গারামপুরের ঘোষপাড়ার একটি মন্দিরে বসে থাকতে দেখা যায় জনৈক ব্যক্তিকে। দু'হাত বুকের কাছে জড়ো করা। তবে তার কোলে যা ছিল, তা দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয়রা। একটি রক্তমাখা কাটা মুন্ডু।
দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুরের ঘোষপাড়ার এই রোমহর্ষক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, স্ত্রী সীমা সরকার ঘোষকে খুন করে গলা কেটে মন্দিরে গিয়ে বসেছিল রিন্টু ঘোষ। আবার কখনও তাকে ওই কাটা মুন্ডু হাতে রাস্তা ঘুরে বেড়াতেও দেখা গিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে রিন্টুকে। উদ্ধার হয়েছে একটি দা। অনুমান করা হচ্ছে, সেটিই মার্ডার ওয়েপন।
তবে প্রশ্ন উঠছে কেন স্ত্রীকে এমন নৃশংস হত্যা করল সে? মৃত সীমার জ্যেঠু রাজেশ প্রামাণিক বলেন, 'কী একটা হয়েছিল চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিল রিন্টু। তারপর থেকে ছোটখাটো ব্যবসা করত। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই কেমন একটা হয়ে গিয়েছিষ হঠাৎ করে নিরামিষ খাওয়া শুরু করল। কেমন। ধার্মিক ধার্মিক, তান্ত্রিক তান্ত্রিক আচরণ করত। কিন্তু এমন মাথা কেটে নেবে কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি।'
প্রায় ১৫ বছর আগে সীমার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রিন্টুর। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। কয়েক বছর আগে রিন্টু উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় কন্ডাক্টরের কাজ করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যেই তাঁকে তান্ত্রিকের বেশে দেখা যেত। তন্ত্রসাধনার কারণেই স্ত্রীকে খুন করে মাথা কেটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।