
সমুদ্রে ও নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতেই বাজারে দেখা মিলতে শুরু করেছে মরশুমের প্রথম ইলিশের। ১৪ জুন মাঝরাত থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় তিন হাজার ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে রওনা দিয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় নদ-নদীতেও ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরার কাজে নেমেছেন মৎস্যজীবীরা। আর সেই জালেই ধরা পড়ছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।
ইতিমধ্যেই সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানীয় মাছের বাজারে ইলিশ বিক্রি শুরু হয়েছে। মুড়িগঙ্গা, হাতানিয়া-দোয়ানিয়া এবং সপ্তমুখীর মতো নদীগুলিতে প্রতিদিন জোয়ারের সময় জাল পেতে মাছ ধরেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ভাটা নামার আগেই সেই জাল তুলে নেওয়া হয়। এ বছর তাঁদের পাতা বিন্দি জালেই ধরা পড়ছে ইলিশ, যার আকার ও গঠনও বেশ আকর্ষণীয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কাকদ্বীপ পালবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, এবারের মরশুমের প্রথম ইলিশ বাজারে এসেছে। স্থানীয় নদী থেকেই মৎস্যজীবীরা মাছ ধরেছেন। মরশুমের শুরু বলে চাহিদাও বেশ ভালো। প্রতিটি মাছের ওজন ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রামের মধ্যে। বর্তমানে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে মৎস্যজীবী সংগঠনের দাবি, এখন যে ইলিশ বাজারে আসছে তা সংখ্যায় খুবই কম। মূলত স্থানীয় নদীগুলি থেকেই এই মাছ ধরা পড়ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলি মাছ নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করবে। বিশেষ করে জামাইষষ্ঠীর আগেই বহু ট্রলার ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংগঠনের মতে, তখন বাজারে ইলিশের জোগান আরও বাড়বে এবং ক্রেতাদের জন্যও বিকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আপাতত মরশুমের প্রথম ইলিশের দেখা মিলতেই মাছপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। ভালো চেহারা ও তাজা মাছ পাওয়ায় বাজারেও জমে উঠেছে কেনাবেচা।