
আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম স্থপতি এবং ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে একাধিক বড় উদ্যোগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি জানান, হুগলির জিরাটে অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক বাড়ি রাজ্য সরকার অধিগ্রহণ করবে। সেখানে গড়ে তোলা হবে একটি স্মৃতিসৌধ, গবেষণাকেন্দ্র এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। পাশাপাশি কলকাতায় স্থাপন করা হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, গুজরাতের স্ট্যাচু অব ইউনিটি এবং হায়দরাবাদের স্ট্যাচু অব ইকুয়ালিটির আদলে এই প্রকল্পকে ঘিরে একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুধু একটি মূর্তি নির্মাণ নয়, বরং তার চারপাশে তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর থ্রি-ডি ডিজিটাল মিউজিয়াম, গবেষণাগার, বৃহৎ লাইব্রেরি এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শোয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ড. শ্যামাপ্রসাদের জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং দেশভাগের সময় বাংলার স্বার্থরক্ষায় তাঁর অবদানকে তুলে ধরা হবে অত্যাধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন আকর্ষণ হিসেবে এই কেন্দ্রকে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২৫ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের মূর্তি নির্মাণ একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। মূর্তির অভ্যন্তরীণ কাঠামো তৈরি হবে উচ্চমানের স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভূমিকম্পেও তা নিরাপদ থাকে। বাইরের অংশে ব্রোঞ্জের সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলতে দেশের সেরা ভাস্কর ও কারিগরদের যুক্ত করা হবে। মূর্তির পাদদেশে থাকবে একটি বৃহৎ প্রদর্শনীকেন্দ্র, যা দর্শনার্থীদের প্রবেশপথ হিসেবেও কাজ করবে।
সরকারি সূত্রে খবর, প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। তবে এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে সম্মান জানাতে এমন উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তাঁদের দাবি, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই নেতার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এখন নজর রয়েছে, কলকাতার কোন স্থানে এই আকাশছোঁয়া মূর্তি নির্মিত হবে এবং কবে থেকে শুরু হবে এই বহুল আলোচিত মেগা প্রকল্পের কাজ।