
ফের পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো ডাক্তারের খোঁজ মিলেছে বলে অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল সোনারপুর। সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকা থেকে ওই ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই ব্যক্তি নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট বলতেন। তাঁর বিরুদ্ধে এমএমবিএস, এফআরসিএস সহ একাধিক ভুয়ো ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আর এই ঘটনাই প্রথম নয়, সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক ভুয়ো ডাক্তারের খোঁজ মিলেছে। অভিযোগ, গত ১৫ বছর মেডিক্যাল কাউন্সিলের সদস্যরা ঘুষ নিয়েই অনেকে ভুয়ো ডিগ্রি সার্টিফিকেট তৈরি করেছেন। সেই ডিগ্রি নিয়ে শহর থেকে শহরতলিতে করেছেন চিকিৎসা। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল সরকারের আমলের মেডিক্যাল কাউন্সিল ও মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে দেওয়া রেজিস্ট্রেশনের তদন্ত চাইছে একাধিক চিকিৎসক সংগঠন।
এই বিষয়ে শাসক দলের মুখপাত্র ও বিজেপি ডক্টর্স ফোরামের নেতা ডা: তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, 'এটা খুবই মারাত্মক ব্যাপার। আমরা বিভিন্ন সময় বলে এসেছি, রাজ্যের যে মেডিক্যাল কাউন্সিল আছে, সেটা নিষ্ক্রিয় এবং শীতঘুমে আছে। তারা কোনও কাজ করে না। এই মেডিক্যাল কাউন্সিলই ডাক্তারি পেশাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই যে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়, সেটা মেডিক্যাল কাউন্সিল ইস্যু করে। কারও রেজিস্ট্রেশন ক্যানসেলও মেডিক্যাল কাউন্সিল করে।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনাদের মনে থাকবে ২০১৭ সালে প্রায় ৫০০ জন এরকম সিআইডির তদন্তের আওতায় ছিল। তখন দেখা গিয়েছিল যে কলকাতার বুকে বড় নামীদামি প্রাইভেট হাসপাতালে ভুয়ো ডাক্তার প্র্যাকটিস করছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা জানি না সেই সময় একজনেরও শাস্তি হয়েছিল কি না।'
তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সালে মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনটা রিগিং করে জিতেছিল তৃণমূল। সেখানে জিতে তৃণমূলের সমস্ত কেষ্টবিষ্টুরা, বসে রয়েছেন। তাদের জন্য হচ্ছে দুর্নীতি।
তিনি মনে করেন, মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সুদীপ্ত রায়ের নিজেরই পদত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি তাঁরা চান, ভুয়ো ডাক্তারের বিরুদ্ধে এফআইআর করে তদন্ত শুরু করুক সরকার।
এই প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বিগত ১৫ বছর ধরে দুর্বৃত্ত চক্র চলছে। মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, সর্বত্রই ছিল এরা। আমাদের আশঙ্কা ভুয়ো ডাক্তারের সংখ্যাটা অনেক গুণ বেশি হবে। মানে এই পাঁচজন-সাতজন নয়, অনেক গুণ বেশি হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, যারা যারা এইভাবে ভুয়ো চিকিৎসক হয়ে মানুষের স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করছে, তাদের সবাইকে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক। এছাড়া যারা এদেরকে এই সমস্ত সার্টিফিকেটগুলি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'
বিষয়টা নিয়ে একই মত রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন এনএমও-এর দক্ষিণবঙ্গের সম্পাদক অর্পণ পালের। তিনি বলেন, 'ভুয়ো ডাক্তার একটা জ্বলন্ত সমস্যা। কেউ সেভেন পাস, এইট পাস। তারা নিজেদের এমডি, এমএস, কখনও কখনও সুপার স্পেশালিটি ডিগ্রিধারী বলে দাবি করছে। এভাবে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। মেডিক্যাল সিস্টেমের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ন্যাশনাল মেডিক্যাল অর্গানাইজেশন মনে করে, সরকারের এ বিষয়ে শক্ত হাতে এই ব্যাপারটা দমন করা উচিত।'
তিনি চান, যারা এই ধরণের জালি ডিগ্রি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্র্যাকটিস করে বেড়াচ্ছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। সেই সঙ্গে যারা সার্টিফিকেট দিচ্ছে, তাদেরও শাস্তির পক্ষে সওয়াল করলেন তিনি।