
Nandigram By-Election 2026: মমতার পায়ে ফ্র্যাকচার ছিল না। তবুও তিনি পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিলেন। এমনই দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের বীরুলিয়ায় প্রচারে গিয়ে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২১ সাল। ভোটের আগে বিরুলিয়ায় প্রচারে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। সেই পুরনো ঘটনাই এ বার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে তুললেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পাঁচ বছর আগে মমতার পায়ে যে চোটের কথা বলা হয়েছিল, তা আসলে ফ্র্যাকচার ছিল না। তাঁর দাবি, এই সংক্রান্ত চিকিৎসার নথি তাঁর কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে সেই নথি প্রকাশ্যে আনার কথাও বলেছেন। তবে মমতার সেই সময়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রকাশ্য রিপোর্টে বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ের হাড় এবং লিগামেন্টে গুরুতর চোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
শুভেন্দুর দাবি, 'ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। আমি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি ওখানকার সভাপতি, ওটা ভবানীপুরের মধ্যে পড়ে। এক্স-রে প্লেট তো ডাক্তারের থাকে না, রোগী পেয়ে যায়। রিপোর্টটা থাকে। সেদিন আপনাদের বদনাম করেছিল। লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল। দরজাটা ফিরে এসে তাঁর পায়ে একটু লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর ডাক্তাররাই লিখেছিল নো ফ্র্যাকচার। আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। যেদিন দরকার হবে ওই কাগজটা দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে।'
২০২১ সালে কী ঘটেছিল?
২০২১ সালের ১০ মার্চ। নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় মমতা আহত হন। মমতার বক্তব্য ছিল, প্রচারের সময় ভিড়ের মধ্যে গাড়ির দরজার কাছে তাঁর পা চেপে গিয়েছিল। পরে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাঁ পায়ে প্লাস্টার নিয়েই হুইলচেয়ারে প্রচারে ফিরেছিলেন মমতা। সেই সময়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ের অংশে হাড় ও লিগামেন্টে চোটের কথা জানানো হয়েছিল। ফলে শুভেন্দুর বর্তমান বক্তব্যে সেই সময়ের প্রকাশ্য মেডিক্যাল ডিটেইলস নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এ দিনের সভায় শুধু ২০২১-এর ঘটনাই নয়, নিজের প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। তিনি চন্দ্রনাথ রথের মা। বিজেপি তাঁকে এই আসনে প্রার্থী করেছে। চন্দ্রনাথকে মে মাসে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বলে রিপোর্ট।
শুভেন্দুর অভিযোগ, চন্দ্রনাথের খুনের পিছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে টাকা লেনদেন এবং বাইরে থেকে শুটার আনারও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জন গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বলেন, 'ছেলেটার অপরাধ ছিল, ও আমার সহযোগী ছিল। গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল। বিহারের মুঙ্গের থেকে উত্তরপ্রদেশে সুপার ঠিক করল। যিনি যোগাযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি চন্দ্রর সঙ্গেই থাকতেন। তাঁর হাতে ২ কোটি টাকা পৌঁছে দিয়েছিল ভাইপো গ্যাং। তদন্তকারীদের কাছে সব তথ্য আছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। এবার শুধু ডায়মন্ড হারবার অ্যান্ড কোম্পানি বাকি আছে। এয়ারফোর্সের এক যুবককে খুন করার গণতান্ত্রিক বদলা হবে ইভিএমে।'