Advertisement

Naushad Siddiqui: হিংসা নিয়ে বিজেপির সুর নওশাদের গলায়, শুভেন্দুর মুচকি হাসি

বিধানসভায় 'বক্তব্য রাখার সুযোগ' পেয়ে খুশি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী(Naushad Siddiqui)। শুক্রবার নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে ওঠেন নওশাদ।

‘তাপসবাবুর কথা ফেলে দেওয়ার মতো নয়’, বিধানসভায় বলতে পেরে খুশি নওশাদ, প্রশংসা শুভেন্দুরও‘তাপসবাবুর কথা ফেলে দেওয়ার মতো নয়’, বিধানসভায় বলতে পেরে খুশি নওশাদ, প্রশংসা শুভেন্দুরও
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 15 May 2026,
  • अपडेटेड 12:08 PM IST
  • বিধানসভায় 'বক্তব্য রাখার সুযোগ' পেয়ে খুশি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
  • বিজেপির তাপস রায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র বক্তব্যের প্রশংসা করলেন। 
  • নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে ওঠেন নওশাদ।

বিধানসভায় 'বক্তব্য রাখার সুযোগ' পেয়ে খুশি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী(Naushad Siddiqui)। শুক্রবার নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে ওঠেন নওশাদ। বিরোধীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করেন। তেমনই বিজেপির তাপস রায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র বক্তব্যের প্রশংসা করলেন। 

শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসাবে নির্বাচিত হন রথীন্দ্র বসু। এরপর সমস্ত দলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই সময়ই বিরোধী দলের বক্তব্য যাতে বাধা ছাড়াই শোনা হয়, সেই আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়।' একই সঙ্গে ডিলিমিটেশন হলে ভবিষ্যতে বিধায়কের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর পরেই তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ভয় নয়, ভরসা চাই। অথচ আমাদের অসংখ্য মানুষ বাড়িছাড়া। আমি স্বৈরাচারের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।'

শোভনদেবের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বিজেপির তাপস রায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও এ বিষয়ে জবাব দেন। তিনি বলেন, 'যদি কোথাও কেউ ঘরছাড়া থাকেন, তাহলে সেখানকার নির্বাচিত বিজেপি প্রতিনিধি এবং এসপি সসম্মানে তাঁকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করবেন। তবে যদি দেখা যায় সেই তৃণমূল কর্মী বা নেতার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ রয়েছে, তা হলে তাঁকে সরাসরি জেলবন্দি হতে হবে।'

এ প্রসঙ্গে বিরোধীদের কাছে ঘরছাড়াদের তালিকাও চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পর বক্তব্য রাখতে উঠে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, 'আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে আপনাকে(স্পিকার) শুভেচ্ছা জানাই। আশা করব আগামী পাঁচ বছর এই হাউজ তার গরিমা বজায় রাখবে। বিরোধীরা যেন নির্দ্বিধায় নিজেদের মতামত রাখতে পারে।'

একই সঙ্গে তাপস রায়ের বক্তব্যের প্রশংসা করে নওশাদ বলেন, 'সত্যি আজ বসে খুব অনুভব করছিলাম, আর মনে মনে হাসছিলাম, তাপস রায়বাবু যে কথাগুলি বলছেন, খুব একটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়।'

Advertisement

২০২১ সালের ভোটের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ভাঙড়ের বিধায়ক। তিনি বলেন, 'নির্বাচনের পর আমি এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম, যাতে মনে হচ্ছিল রাজনীতি ছেড়ে দিই।' সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর আবেদন, 'এবার যে ক’টি এমন ঘটনা আছে, সেগুলি একটু দেখবেন।'

বিধানসভায় বিরোধীদের বক্তব্য নিয়ে আগের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন নওশাদ। তিনি বলেন, 'আমাকে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে বিরোধীদের বক্তব্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।'

একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে পাঠানো চিঠির উত্তর না মেলার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে এ বার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিরোধীদের বক্তব্য গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইএসএফ বিধায়ক।

বিধানসভা লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নওশাদ বলেন, 'মানুষ যেন জানতে পারেন এখানে কে কী বলছেন, তাঁদের স্বার্থে কী কাজ হচ্ছে, কী আইন তৈরি হচ্ছে।'

এ দিন তাঁর বক্তব্যে এক দিকে যেমন বিরোধীদের অধিকারের প্রশ্ন উঠে এল, তেমনই শাসক-বিরোধী দুই শিবিরের কিছু বক্তব্যের প্রশংসাও শোনা গেল নওশাদের মুখে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার প্রথম দিনের এই বার্তা আগামিদিনে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

Read more!
Advertisement
Advertisement