
বাংলায় পালা বদল হয়েছে ৪ মে। বিরাট জনসমর্থন নিয়ে এসেছে বিজেপি। গেরুয়া ঝড়ের সামনে কার্যত উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরই অন্যান্য সব ক্ষেত্রের মতোই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও 'পাল্টি' শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেকে নিজেদের ন্যাশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেশনের (এনএমও) সদস্য বা নেতা বলে দাবি করছেন। এই পরিচয়ে তারা স্বাস্থ্যকর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও খবর। আর এমন পরিস্থিতিতে এই সব শিক্ষক চিকিৎসক, চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের নিয়ে বিবৃতি জারি করল এনএমও। তাদের পক্ষ থেকে সোজা ঘোষণা, এই ধরনের কাজ অনৈতিক। তাদের সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের কাজ করা যাবে না।
সংস্থার দক্ষিণবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অনেকেই তাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর্তা, স্বাস্থ্যবিদ্যালয় এবং সিএমওএইচ অফিসে কথা বলতে শুরু করেছে। এমনকী একাধিক আনঅফিশিয়াল হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপও চলছে। আর এই সব কাজই অনৈতিক। তাদের সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগ নেই।
এই বিষয়টা নিয়েই যোগাযোগ করা হয়েছিল এনএমও দক্ষিণবঙ্গের সম্পাদক ডা: অর্নপ কুমার পালের সঙ্গে। তিনি সোজাসুজি জানান, ৪৯ বছর ধরে এই সংগঠন কাজ করছে। এই সংগঠন সেবার সঙ্গে যুক্ত। চিকিৎসক, ডেন্টাল চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের নিয়ে এই সংগঠন কাজ করে। এই সংগঠনের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। এই সংগঠন চায় জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি করা। পাশাপাশি নীতিবান ও আদর্শবান চিকিৎসক তৈরির কাজটাও করতে চান তাঁরা।
মেম্বারশিপ বন্ধ রাখা হয়েছে
ডা: অর্নপ বলেন, 'অনেকেই এনএমও-এর নেতা বা সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে স্বাস্থ্য ভবন, সিএমওএইচ অফিস এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছেন। এই বিষয়ে সচেতন করতেই প্রেস রিলিজ করা হয়েছে। এরা কেই সংগঠনের সদস্য নয়।'
এখানেই থেমে না থেকে তিনি জানান, যারা অতীতে দুর্নীতি বা থ্রেট কালচারের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের সংগঠনে কোনওভাবেই জায়গা দেওয়া হবে না। বর্তমানে নতুন মেম্বারশিপ দেওয়ার কাজও বন্ধ করা হয়েছে।
তাদের যা দাবি...
ডা: অর্নপ জানান, এনএমও-এর তরফে আরজি কর কাণ্ডের বিচার চাওয়া হচ্ছে। দ্রুত দোষীদের শাস্তির দাবি রয়েছে। পাশাপাশি ভেন্টিলেশনে পৌঁছে যাওয়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্তি করার দাবিও তারা জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকার যদি তাদের কোনও মতামত চায়, সেটাও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।