
PM Modi West Bengal: 'পরিবর্তন ভালো লাগছে তো?' বাংলায় প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এদিন ওড়িশার কর্মসূচি শেষ করে তারকেশ্বরে এসে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্যাপনে যোগ দেন। মঞ্চ থেকে রাজ্যের উন্নয়ন, কৃষক কল্যাণ, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মোদী বলেন, বাংলার হাওয়ায় নতুন সতেজতার ছোঁয়া। বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। গ্রামেগঞ্জে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পে গতি এসেছে। এই সবই বাংলার পরিবর্তন বুঝিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, একটি ভোট এবং একটি নির্বাচন কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তা এখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, দেশভাগের সময় গোটা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং বহু বিশিষ্ট বাঙালির আন্দোলনের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়ে যায়। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ দিবস কেবল একটি দিন নয়, বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের স্মরণের দিন।
মোদী বলেন, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের অপশাসনে শিল্প, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে।
অনুষ্ঠান থেকে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সড়ক, কৃষি, মৎস্যচাষ, রেল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে দাবি করেন তিনি। হাওড়ায় নতুন রেল হাসপাতাল, বিভিন্ন রেল পরিকাঠামো প্রকল্প এবং মাছচাষ সংক্রান্ত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
এ দিন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (PM-KISAN)-এর ২৩তম কিস্তির টাকাও ঘোষণা করেন। বলেন, দেশের ৯ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য ফসল বিমা যোজনা চালুর কথাও ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশনের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্যভান্ডার তৈরি এবং কৃষি পরিষেবা আরও সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ভারতের উন্নয়ন ছাড়া 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। সেই কারণে 'মিশন পূর্বোদয়'-এ পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, বাংলার অগ্রগতি গোটা পূর্ব ভারতের উন্নয়নের গতি বাড়াবে।
ভাষণের শেষ পর্বে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রসঙ্গও তোলেন মোদী। তিনি জানান, এ বছর তিনি পশ্চিমবঙ্গেই যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ দিচ্ছেন। স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঋষি অরবিন্দের পূণ্যভূমি থেকে যোগের মাহাত্ম্য সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে যাবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।