Advertisement

Who is Sanjeev Sanyal: PM মোদীর উপদেষ্টাই কি নতুন অর্থমন্ত্রী? নন্দীগ্রামের BJP প্রার্থী নিয়ে জল্পনা

টানা ১০ বছর দখলে রাখা নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে নিজের জয় নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিতই ছিলেন। হলও তাই। নন্দীগ্রাম তো বটেই ভবানীপুরেও বিপুল আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হন শুভেন্দু। এরপর ভবানীপুরকে হাতে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। দিন কয়েক ধরেই জল্পনা চলছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি কার হাতে ছাড়া হবে। বিজেপির সূত্র থেকে দুটি নাম উঠে আসছে। এক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল, দুই, মেঘনাদ সাহা (শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট)।

সঞ্জীব সান্যালসঞ্জীব সান্যাল
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 15 May 2026,
  • अपडेटेड 4:57 PM IST

টানা ১০ বছর দখলে রাখা নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে নিজের জয় নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিতই ছিলেন। হলও তাই। নন্দীগ্রাম তো বটেই ভবানীপুরেও বিপুল আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হন শুভেন্দু। এরপর ভবানীপুরকে হাতে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। দিন কয়েক ধরেই জল্পনা চলছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি কার হাতে ছাড়া হবে। বিজেপির সূত্র থেকে দুটি নাম উঠে আসছে। এক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল, দুই, মেঘনাদ সাহা (শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট)।

যদিও, নন্দীগ্রাম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে এগিয়ে সঞ্জীব সান্যালই। তিনি বাংলার অর্থমন্ত্রীও হতে পারেন বলে জল্পনা। bangla.aajtak.in-এর তরফে বিজেপির রাজ্যসভার সভাপতি রাহুল সিনহাকে ফোন করা হয়। তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

সঞ্জীব সান্যাল কে?
সঞ্জীব সান্যাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। দেশের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের (EAC-PM) সদস্য।

EAC-PM হল একটি স্বাধীন, অসাংবিধানিক ও অস্থায়ী সংস্থা, যা ভারত সরকারকে, বিশেষত প্রধানমন্ত্রীকে, অর্থনৈতিক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য গঠিত হয়েছে। এটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক বিষয়গুলিতে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে।

উল্লেখ্য, বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। বর্তমানে শুভেন্দু গুরুত্বপূর্ণ অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রকের দায়িত্বেও আছেন। 

বিজেপি সরকারে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অর্থনীতির বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন কোনও বিধায়ক নেই। দ্য টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের (ইএসি) সদস্য সঞ্জীব সান্যালই অর্থমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, শীর্ষ রাজনৈতিক পদে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে আসা বিজেপির জন্য নতুন কিছু নয়। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এর উদাহরণ।

সঞ্জীব সান্যাল

শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণে ছিলেন সঞ্জীব
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সঞ্জীবকে ধুতি-পাঞ্জাবিতে আদ্যপান্ত বাঙালি পোশাকে দেখা গিয়েছিল। তাঁর স্ত্রী স্মিতা বড়ুয়াও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বলা হচ্ছে, মহিলা ভোটার টানতে তাঁর স্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

Advertisement

৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সঞ্জীন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।  তিনি বাংলার 'অর্থনৈতিক পতন' এবং বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, "কলকাতা মরেনি। কলকাতাকে হত্যা করা হয়েছে এবং আমি এর সাক্ষী।"

সঞ্জীব সান্যালের পরিচিতি
সঞ্জীব সান্যাল হলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী শচীন্দ্রনাথ সান্যালের প্রপৌত্র, যিনি ভগত সিং এবং চন্দ্রশেখর আজাদের পরামর্শদাতা ছিলেন। তাঁর প্রপিতামহ, নলিনাক্ষ সান্যাল, অবিভক্ত বাংলা প্রাদেশিক বিধানসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সর্দার ছিলেন।

বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক অর্থনীতিবিদ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, "তাঁর মধ্যে বাঙালি শিকড় ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন ঘটেছে। তিনি বাংলাকে আবেগগত ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বোঝেন, এবং বিশ্বজুড়ে আধুনিক অর্থনীতি কীভাবে কাজ করে, সেটাও তাঁর জানা।"

ভবিষ্যৎ অর্থমন্ত্রীর জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে চলেছে?
গত কয়েক বছরে বাংলার অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হয়েছে। ইএসি-পিএম (EAC-PM) তথ্য অনুযায়ী, দেশের জিডিপিতে বাংলার অবদান দিন দিন পিছোচ্ছে, যা ২০২৩-২৪ সালে ৫.৬%-এ নেমে এসেছে। ১৯৬০-৬১ সালে এর অংশ ছিল ১০.৫%, যা একে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছিল। এখন, এটি ২৪তম স্থানে রয়েছে।

এছাড়াও, মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের ১২৭.৫% ছিল, তা এখন কমে মাত্র ৮০%-এ দাঁড়িয়েছে। একসময় ভারতীয় শিল্পের প্রধান কেন্দ্র থাকা রাজ্যেটির দৈন্য অবস্থা।

রাজ্যের ঋণ, যা বেড়ে ৭.৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে, তা সামলানো নতুন বিজেপি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

সম্প্রতি কয়েকটি সাক্ষাৎকারে সঞ্জীব ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে বাংলার হারানো গৌরব ফেরৎ পাওয়া যেতে পারে। 

তিনি বলেন এও বলেন, এই অবক্ষয় শুধু অর্থনৈতিকই নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement