
কেন্দ্রের ‘পিএম স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া’ বা PM SHRI Schools প্রকল্প নিয়ে একসময় তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে প্রশাসনিক পালাবদলের পর সেই অবস্থানে বদলের ইঙ্গিত মিলছে। এবার এই প্রকল্পের আওতায় উদ্ভাবন ও মেন্টরশিপ বিষয়ক তিন দিনের বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি আগামী ১৩ মে থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন প্রেক্ষাগৃহে শুরু হবে। শুধু PM-SHRI প্রকল্পভুক্ত স্কুল নয়, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকরাও এতে অংশ নেবেন। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ২০০ জন শিক্ষক ও পড়ুয়ার থাকার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূচিতে উদ্ভাবন, ডিজাইন থিংকিং, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞদের মেন্টরশিপ এবং বিভিন্ন শিক্ষা-ভিত্তিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শেষ দিনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের সামনে তুলে ধরবে।
এই PM-SHRI প্রকল্প নিয়েই অতীতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার শর্ত দিয়েছিল, অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অনুদান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিকে নিজেদের নামের আগে ‘PM-SHRI’ উপসর্গ ব্যবহার করতে হবে। এই শর্তের বিরোধিতা করে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরালার মতো কয়েকটি রাজ্য প্রকল্পে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুক্তি ছিল, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশ রাজ্যকেই বহন করতে হবে।
২০২৪ সালের মার্চে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু অভিযোগ করেছিলেন, PM-SHRI প্রকল্পে সমঝোতা স্মারক সই না করায় কেন্দ্র ‘সর্বশিক্ষা মিশন’-এর তহবিল আটকে রেখেছে।
তবে গত ৪ মে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ‘ইনোভেশন সেল’ এই কর্মসূচির জন্য ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। এ ধরনের কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গে আরও বেশি হওয়া উচিত। এতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে এবং রাজ্যে আরও বেশি কেন্দ্রীয় অনুদান আসবে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের প্রায় ৯.৬৬ কোটি টাকার অনুদানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথাগত চিকিৎসা মূল্যায়ন কেন্দ্রও গড়ে উঠেছে।
এই তিন দিনের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ হল ‘স্কুল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’। নির্বাচিত উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলিকে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, কেন্দ্রের ‘কপিলা ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় পেটেন্ট বা উদ্ভাবনের স্বত্ব নিবন্ধনের জন্য স্কুলগুলিকে ৩৪,১০০ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।