
অবশেষে মাতৃভাষা দিবসের দিনই সিলমোহর পড়ল সমস্ত জল্পনায়। সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন ডায়মন্ড হারবারের 'বিদ্রোহী' সিপিএম নেতা প্রতীক উর রহমান। আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেই জানালেন, 'হ্যাঁ, ডিল হয়েছে। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকানোর ডিল হয়েছে।'
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ঘিরে এমনিতেই রাজনৈতিক জল্পনা ছিল তুঙ্গে। তারই মধ্যে আলোচনা শেষে প্রতীক উর রহমানকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই সময়ই আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলের পতাকা, উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয় প্রতীকের হাতে। ঠিক সেই সময় সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত করা হয় প্রতীক উরকে।
‘ডিল হয়েছে’ বিতর্কে নিজেই মুখ খুললেন প্রতীক
প্রতীক উর রহমানের কথায়, 'আমার নীতি নৈতিকতা বিজেপিকে আটকাও, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আটকাও। ওরা যে বলছে, ডিল হয়েছে, হ্যাঁ, হয়েছে। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকাও, সেই ডিল হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যাঁরা নীতি নৈতিকতার কথা বলছেন, তাঁরা ভাবুন। সিপিএম তো অনেক সময় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলও সিপিএমকে বিজেপির বি টিম বলেছে। বিভিন্ন বৈঠক, রাজনৈতিক অবস্থান; সব মিলিয়ে কে কোন ডিল করেছে, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।'
‘টিকিটের জন্য আসেনি’
অন্যদিকে, প্রতীক উর রহমানের যোগদান প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'গত দু’দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে দেখছি বলা হচ্ছে প্রতীক উর তৃণমূলের সঙ্গে ডিল করেছে। ডিলটা কী? ডিল নাকি বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট।'
অভিষেকের দাবি, প্রতীক নিজেই তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোনও টিকিটের জন্য আসেননি। অভিষেক বলেন, 'প্রতীক নিজে এসে আমাকে বলেছে, দাদা, দল যদি আমাকে টিকিট দেয়ও, আমি তা নেব না। আমি সংগঠনের জন্য কাজ করতে চাই। আজকের দিনে এমন মনোভাব খুব কম দেখা যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'সিপিএমে নতুন প্রজন্মের যে ক’জন লড়াই করছে, তাঁদের মধ্যে প্রতীক অন্যতম। অথচ নিজের দলের মধ্যেই তাঁকে আগে থেকেই বেইমান বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রতীক উর রহমান। সেই নেতাই এ বার অভিষেকের হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা তুলে নিলেন।
গত তিন দিন ধরেই প্রতীকের তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা চলছিল। তাঁর অনুগামীরাও সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছিলেন। তবে শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে বেলা গড়াতেই সেই জল্পনার অবসান হল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এই ঘটনা তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।