
দু’দিনের সফরে শনি ও রবিবার বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরে তিনি যেমন হুগলির তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনে অংশ নেবেন, তেমনই কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি কৃষি, রেল, গ্রামীণ উন্নয়ন, মৎস্য ও পশুপালন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি।
তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
২০ জুন বিকেলে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত রাজ্যস্তরের ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। এবারের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ: ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’।
এই মঞ্চ থেকেই দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা করবেন তিনি।
কৃষকদের অ্যাকাউন্টে যাবে ১৮,৮৮০ কোটি টাকা
অনুষ্ঠান থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির ২৩তম কিস্তির অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। দেশজুড়ে ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হবেন। মোট ১৮,৮৮০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ৪৫ লক্ষেরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। এর ফলে রাজ্যে এই প্রকল্পের আওতায় মোট বিতরণের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়ে যাবে।
চালু হবে একাধিক কৃষি প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী এদিন রাজ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি প্রকল্পেরও সূচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষক ও ১৪ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অ্যাগ্রিস্ট্যাক: কৃষকদের জন্য ডিজিটাল পরিষেবা আরও সহজ করতে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হবে। এর মাধ্যমে সার বণ্টন, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সরাসরি অর্থ স্থানান্তর এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল বিক্রির সুবিধা এক জায়গায় পাওয়া যাবে।
প্রাকৃতিক চাষের জাতীয় মিশন: পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিকমুক্ত কৃষিকাজকে উৎসাহ দিতে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪৬টি প্রাকৃতিক চাষের ক্লাস্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা: পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও ঝাড়গ্রামে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
মৎস্য, পশুপালন ও রেল ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ
কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও পশুপালন ক্ষেত্রেও একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিকীকৃত মৎস্য বন্দর এবং বীরভূমের সাঁইথিয়ায় নতুন মাছ বাজারের উদ্বোধন হবে। এছাড়া নদিয়ার হরিণঘাটায় পূর্ব ভারতের প্রথম আঞ্চলিক ছাগল বীর্য উৎপাদন ল্যাবরেটরি ও সিমেন ব্যাঙ্কেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।
রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হবে। হাওড়ার সাঁকরাইল-সাঁতরাগাছি লিঙ্ক লাইনের উদ্বোধনের পাশাপাশি নতুন ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতাল এবং পূর্ব মেদিনীপুরে একটি রোড ওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নেও জোর
‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’-র আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ৩১৫ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের ৪৯টি গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। এর ফলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশজুড়ে যোগচর্চা ও সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা পৌঁছে দিতে এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
দু’দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, তেমনই একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষক, মৎস্যজীবী, পশুপালক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সুযোগের দ্বারও খুলে দেবেন।