Advertisement

'ওদের ঢুকল, আমাদের কেন ঢুকল না?' অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির নেতা ও জনপ্রতিনিধিদেরও মাঠে নামতে হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কিছু সরকারি কর্মীর গাফিলতি ও অনিয়মের কারণেই বহু যোগ্য আবেদনকারীর আবেদন ঝুলে রয়েছে।

অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ।-নিজস্ব ছবিঅন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ।-নিজস্ব ছবি
অনিল গিরি
  • কলকাতা,
  • 07 Jul 2026,
  • अपडेटेड 3:26 PM IST
  • অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করেও মাসের পর মাস টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার পুরুলিয়া পুরসভার সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বহু মহিলা।
  • শুধু পুরুলিয়াই নয়, তেহট্ট-সহ রাজ্যের একাধিক জেলাতেও একই অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করেও মাসের পর মাস টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার পুরুলিয়া পুরসভার সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বহু মহিলা। শুধু পুরুলিয়াই নয়, তেহট্ট-সহ রাজ্যের একাধিক জেলাতেও একই অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

পুরুলিয়া শহরের ২৩টি ওয়ার্ড থেকে আসা বিপুল সংখ্যক মহিলা পুরসভা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রায় দু'মাস আগে অনলাইন বা অফলাইনে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এখনও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা পৌঁছায়নি।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস বারবার বদলাচ্ছে। কখনও ‘রিজেক্টেড’, কখনও ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ দেখাচ্ছে। সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁরা একাধিকবার সাইবার ক্যাফে, পুরসভা, ব্লক অফিস এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে গেলেও কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাননি।

অনেক মহিলার দাবি, একই পরিবারের একাধিক সদস্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ টাকা পেলেও অন্যরা এখনও কোনও অনুদান পাননি। ফলে অনেক পরিবার আর্থিক সমস্যায় পড়েছে। যোগ্য আবেদনকারী হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, সেই প্রশ্নই তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং আবেদন যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার দাবিতে তাঁরা পুর প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাসই মিলছে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার কোনও সমাধান হচ্ছে না।

পুরুলিয়া পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক তাপস কুমার মণ্ডল জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই সমস্ত আবেদন যাচাই করা হচ্ছে। যাঁরা প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টেই ধাপে ধাপে অনুদানের টাকা পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কবে সেই টাকা মিলবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন আবেদনকারীরা।

এদিকে শুধু পুরুলিয়াতেই নয়, নদিয়ার তেহট্ট মহকুমার বিভিন্ন বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং প্রশাসনিক দফতরের সামনেও একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলাতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির নেতা ও জনপ্রতিনিধিদেরও মাঠে নামতে হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কিছু সরকারি কর্মীর গাফিলতি ও অনিয়মের কারণেই বহু যোগ্য আবেদনকারীর আবেদন ঝুলে রয়েছে।

Advertisement

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু হয়। নতুন প্রকল্পে মাসিক অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে পুরনো উপভোক্তাদেরও নতুন করে আবেদন জমা দিতে হয়।

সরকার ইতিমধ্যেই ধাপে ধাপে বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো শুরু করেছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে আটকে রয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে অনেকেই টাকা পেলেও বহু আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে এখনও কোনও অর্থ জমা পড়েনি। আবেদনপত্রের স্ট্যাটাসে বারবার পরিবর্তন এবং দীর্ঘসূত্রিতার জেরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement