
Rachna Banerjee Urbana flat controversy: 'আরবানা'য় থাকার যোগ্যতা। 'ফুটপাথের মেয়ে'। একের পর এক মন্তব্যে ট্রোলড রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতিতে দল বা গোষ্ঠী বদল নতুন কিছু নয়। তবে 'প্রাক্তন দিদি নাম্বার ওয়ানে'র কথা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি টলিউডের একাংশ। আগে জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী বলেছিলেন রচনা। ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কটাক্ষকে কেন্দ্র করে। কল্যাণ দাবি করেছিলেন, দল ছাড়ার পর রচনার আরবানার ফ্ল্যাটে এখন শুধু দুধওয়ালা আর কাগজওয়ালা ছাড়া কেউ যায় না। এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে রচনা বলেন, তিনি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রায় ২০০টির বেশি ছবি করেছেন। তাই নিজের যোগ্যতায় আর্বানায় ফ্ল্যাট কিনেছেন, কারও দয়ায় নয়।
‘স্টার পাওয়ারের দম্ভ’, তোপ ঋদ্ধি সেনের
এর আগে রচনা দাবি করেন, তৃণমূল তাঁর 'ফেস ভ্যালু' ব্যবহার করে হুগলি আসন জিতেছিল। তিনি কোনও অনামী মুখ ছিলেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর বদলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেন কোনও 'ফুটপাথের' বা 'গড়িয়াহাটের' মেয়েকে প্রার্থী করলেন না?
রচনার এই 'ফুটপাথ' মন্তব্য একদমই ভালোভাবে নেয়নি টলিউডের একাংশ। অভিনেতা ঋদ্ধি সেন ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখে ক্ষোভ উগরে দেন। ঋদ্ধি লেখেন, 'এই মনোভাবই সমাজ ও দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু।' তিনি আরও বলেন, তারকা বা রাজনৈতিক নেতারা ফুটপাথের মানুষের ভোট নিয়ে জেতেন। অথচ মনে মনে বিশ্বাস করেন যে, ফুটপাথ থেকে উঠে আসা কোনও মেয়ের সাংসদ হওয়ার ক্ষমতা নেই। ঋদ্ধির মতে, রচনা নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে আসলে নিজের ভেতরের 'স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্য ও ঘৃণা' প্রকাশ করে ফেলেছেন।
রসিকতায় বিঁধলেন ঋত্বিক, ভাস্বর
শুধু ঋদ্ধি নন, নাম না করে রচনাকে কটাক্ষ করেছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীও। নিজের চেনা রসিকতার ঢঙে ঋত্বিক লেখেন, 'শুনলাম কে নাকি বলেছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে পাস করলে তবেই আর্বানায় চান্স পাওয়া যায়!'
অন্যদিকে, অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও এই 'আর্বানায় থাকার যোগ্যতা' তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফেসবুকে লেখেন, 'আর্বানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে শুনলাম... তাহলে যাঁরা 'Atmosphere' বা 'The 42'-র মতো আরও দামি বহুতলে থাকেন, তাঁরা কী বলবেন?' অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও এই বিষয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি লিখেছেন, আর্বানাতে থাকার যোগ্যতা কার কার আছে, সেই লিস্ট মিলিয়ে দেখা দরকার।
রাজনৈতিক চাপানউতোর যাই হোক না কেন, আপাতত যে রচনা টলিপাড়া ও নেটদুনিয়ার একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন, তা বলাই বাহুল্য।