
পাশের মুসলমান পাড়াতেও এগিয়ে তৃণমূল। কিন্তু এই একটি সংখ্যালঘু বুথে বিজেপি কীভাবে সব ভোট পেয়ে গেল? প্রশ্ন TMC-র। ভবানীপুরের পর এবার রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করল তৃণমূল। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ TMC প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়।
মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে এই কেন্দ্রে হেরেছিলেন তাপস। সেই ফলের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করেছেন। আদালতে একাধিক আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ভোট পুনর্গণনা, ভোট সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং গণনা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন।
এর আগেও এই কেন্দ্রের ভোটগণনা ও রেজাল্ট 'অস্বাভাবিক' বলে সরব হয়েছে তৃণমূল। অভিযোগের কেন্দ্রে একটি সংখ্যালঘু বুথের ভোটের রেজাল্ট।
TMC-র দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত একটি বুথে তৃণমূল মাত্র পাঁচটি ভোট পেয়েছে। এটি বাস্তবসম্মত নয়। সেই কারণেই ফলাফল এবং ভোটগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।
উল্লেখ্য, রাজারহাট-নিউ টাউন কেন্দ্রে ভোটগণনার শুরু থেকে তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানৌড়িয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। তৃণমূলের দাবি, ১৭ দফা গণনা শেষে এগিয়েও ছিলেন তাপস। কিন্তু শেষ পর্বে একটি বুথের ফল প্রকাশের পর হঠাৎ বদলে যায় সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত ৩১৬ ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী।
সেই ১৬৪ নম্বর বুথকে নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন TMC নেতা-কর্মীরা। স্থানীয়ভাবে এটি 'মুসলমান পাড়া' নামে পরিচিত। অভিযোগ, শুরু থেকে গণনার সময় ওই বুথের ভোট গোনা হয়নি। পরে শেষ পর্যায়ে হঠাৎ খুব দ্রুত সেই বুথের ভোট গণনা করা হয়। এমনই দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য কী বলছে?
ওই বুথে মোট ৬৫৬টি ভোট পড়েছিল। তার মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৬৩৭টি। তৃণমূল মাত্র ৫টি ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ বুথের প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোটই বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে। বলছে কমিশনের তথ্য।
এই পরিসংখ্যান নিয়েই আপত্তি তুলেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, সংখ্যালঘু ভোটার বেশি, এমন বুথে এই ফলাফল রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না। ১৬৫ নম্বর বুথেও সংখ্যালঘু আছেন। সেখানে মুসলিম ভোটার প্রায় ৯১ শতাংশ। বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩২টি ভোট। এগিয়ে TMC ও বাম প্রার্থী। ফলে দুই বুথের ফলাফলে এত বড় ফারাক অস্বাভাবিক বলে দাবি তৃণমূলের।
তাপস চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচন পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বুথের ভোট পুনরায় গণনা করা হোক। নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নথি আদালতের নির্দেশে সুরক্ষিত রাখা হোক। আদালত এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।