Advertisement

‘ওয়ান ফিগার’ জুয়া চালিয়ে কোটিপতি, তৃণমূলের বাবুলাল শেখদের মদত দিত কে? তদন্তের দাবি

স্থানীয়দের একাংশের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ঘনিষ্ঠতার কারণে এতদিন এই বিষয়গুলো আড়ালে ছিল। তবে এখন পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে। শহরে বাবুলাল শেখ ও তার পরিবারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হলে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

সংগৃহীত ছবিসংগৃহীত ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 16 May 2026,
  • अपडेटेड 2:55 PM IST
  • কাটোয়া শহরে তৃণমূল নেতা বাবুলাল শেখকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও তাঁর দ্রুত উত্থান নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
  • পুরসভার সামান্য মজদুর পদে চাকরি থেকে শুরু করে বর্তমানে শহরের একটি নামী স্কুলের পরিচালন সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে তার উপস্থিতি, সব মিলিয়ে তাঁর এই উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষিত মহল।

কাটোয়া শহরে তৃণমূল নেতা বাবুলাল শেখকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও তাঁর দ্রুত উত্থান নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুরসভার সামান্য মজদুর পদে চাকরি থেকে শুরু করে বর্তমানে শহরের একটি নামী স্কুলের পরিচালন সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে তার উপস্থিতি, সব মিলিয়ে তাঁর এই উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষিত মহল। কীভাবে এত অল্প সময়ে সে এতটা প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছল, তা নিয়েই শহরজুড়ে চলছে জোর আলোচনা।

অভিযোগ, বাবুলাল শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা, বালিঘাট নিয়ন্ত্রণ এবং জমি দখলের মতো কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল। স্থানীয়দের দাবি, একসময় কলেজ রাজনীতি থেকে শুরু হলেও পরে সে তৃণমূল রাজনীতির ছত্রছায়ায় দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে। এবং ধীরে ধীরে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

বালিঘাটের নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শহরের ‘ওয়ান ফিগার’ জুয়া চালানোর অভিযোগও উঠেছে বাবুলাল ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাঁর মেজ ভাই ছোট্টু শেখ এই জুয়ার কারবারের তদারকি করতে। এক লটারি বিক্রেতার বক্তব্য অনুযায়ী, শহরের ক'য়েকটি ক্লাবেও এই ধরনের অবৈধ লটারির রমরমা ব্যবসা চলত। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এই জুয়ার মাধ্যমে লুট হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই জুয়ার সাম্রাজ্য পরিচালিত হতো। স্থানীয়দের দাবি, কিছু তৃণমূল নেতার মদতেই এই কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। কার্তিক পুজোসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাদাগিরি, মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। কার্তিক পুজোয় বুলডোজার নিয়ে শোভাযাত্রাও করেছিল বাবুলালরা। জুয়োর চক্রে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে বাবুলাল শেখের ভাইদের নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরিবারের তিন ভাইই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।

Advertisement

স্থানীয়দের একাংশের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ঘনিষ্ঠতার কারণে এতদিন এই বিষয়গুলো আড়ালে ছিল। তবে এখন পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে। শহরে বাবুলাল শেখ ও তার পরিবারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হলে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement