Advertisement

NCPI Controversy: NCPI, BJP নাকি TMC? সুদীপ, কাকলি, শতাব্দী, সায়নীদের বিরুদ্ধে এ বার 'পার্টি দখলের' অভিযোগ

যার নির্যাস, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বর্তমান অবস্থান নিয়েই বিস্তর ধোঁয়াশা। সুতোয় ঝুলছে। এদিকে এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনুর চ্যালেঞ্জ, 'যাঁরা এনসিপিআইয়ে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা একবার এই দলের টিকিটে জিতে আসুন। তাঁরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। এখানে এসে দলে যোগ দিলে, সেই দলের দুই তৃতীয়াংশ লোক কোথায়? শুধু এমপিরা যোগ দিলে হবে না।'

জুন মাসে যখন লোকসভায় পৃথক বসার জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন বিদ্রোহীরা- পিটিআই ফাইল ছবিজুন মাসে যখন লোকসভায় পৃথক বসার জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন বিদ্রোহীরা- পিটিআই ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 23 Sep 2026,
  • अपडेटेड 9:37 AM IST
  • NCPI-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের পাল্টা চিঠি
  • NCPI-এর জাতীয় কমিটিতে সুদীপ, কাকলি বাদ 
  • 'NCPI-এর টিকিটে জিতে আসুন'

ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI নামক অনামী দলে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের যে শিবির, তা নিয়ে বিস্তর ধোঁয়াশাই রয়ে যাচ্ছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্‍ কী, এখনও জানা নেই। তাঁরা এখন ঠিক কোন দলের সাংসদ, তা এখনও জানাতে পারেননি সুদীপ, কাকলিরা। স্পিকার ওম বিড়লার চিঠির প্রেক্ষিতে আরও সময় চেয়েছেন তাঁরা।  এরই মধ্যে NCPI-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে দাবি করলেন,  NCPI-কে দখল করতে চাইছেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। তিনিও এ বার চিঠি দিলেন লোকসভার স্পিকারকে।

NCPI-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের পাল্টা চিঠি

কয়েকটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে শান্তনুর দাবি, 'একটা কমিটি তৈরি করতে গেলে যারা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রয়েছে, যারা দায়িত্বে ছিল, তাদের সঙ্গে একটা আলোচনার দরকার ছিল। সেটা তো হয়নি। আমাকে তো আজ পর্যন্ত ডাকেনি। কিংবা আমার সঙ্গে যারা দলটাকে তৈরি করেছে, তাদের কাউকেই ডাকেনি।' এরপরেই তিনি জানান, কাকলি, শতাব্দীদের গঠিত কমিটি নিয়ে যে তিনি স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন, তা-ও জানালেন। শান্তনুর কথায়, 'আমরা ইতিমধ্যে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি নিজেও পাঠিয়েছি। কিংবা ত্রিপুরায় যারা দায়িত্বে ছিল, তারাও চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠিতে আমরা স্পিকারকে জানিয়েছি, আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে, আমাদের সমর্থন ছাড়া যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা একটু বিবেচনা করে দেখবেন।' 

NCPI-এর জাতীয় কমিটিতে সুদীপ, কাকলি বাদ 

এদিকে মঙ্গলবার NCPI যে জাতীয় কমিটি ঘোষণা করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষদস্তিদারের নাম নেই। তৃণমূলের ৭ জন বিদ্রোহী সাংসদ জায়গা পেয়েছেন। সহ সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে আবু তাহের খান, দেব, ইউসুফ পাঠান, জগদীশ বাসুনিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মিতালি বাগ ও বাপি হালদারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। অথচ NCPI-এর অন্য়তম মুখ হিসেবে যাঁদের নাম উঠে আসছিল, সেই সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বা কাকলি ঘোষদস্তিদারের নাম ঠাঁই হয়নি।

Advertisement

১৭ জন সাংসদের বিজেপি যোগের জল্পনায় জল ঢেলেছেন শমীক

অন্যদিকে আবার জগদীশ বসুনিয়া গত সপ্তাহে দাবি করে বসলেন, ১৭ জন সাংসদকে নাকি বিজেপি পুজোর আগে বা পরেই নেবে। অর্থাত্‍ ১৭ জন সাংসদ নাকি বিজেপি যোগ দেবেন। এদিকে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জগদীশের দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ৩ জনকে নেওয়া মানেই ৩০ জনকে দলে নেওয়া নয়। শমীকের কথায়, 'তাঁর ইচ্ছে হয়েছে বিজেপি যোগ দেওয়ার তিনি বলেছেন। বিজেপি তাঁকে নেবে কিনা সেটা তো বিজেপির ব্যাপার। ২০২১ সালের ২ মে এর পর ২৭ দিনে ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন, ২০০ বিজেপির মহিলা কর্মী গণপধর্ষিতা, জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙা, থুতু ফেলে চাটানো, মাথা কামিয়ে দেওয়া, জরিমানা নিয়ে বাড়ি ফেরানো, অটো টোটো স্ট্যান্ড থেকে ছেলেদের বের করে দেওয়া... এগুলো বিজেপি ভুলে যায়নি। সুতরাং বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই সমস্ত পাপ মুছে যাবে, এমন মনে করার কোনও কারণ নেই।'  

'NCPI-এর টিকিটে জিতে আসুন'

যার নির্যাস, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বর্তমান অবস্থান নিয়েই বিস্তর ধোঁয়াশা। সুতোয় ঝুলছে। এদিকে এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনুর চ্যালেঞ্জ, 'যাঁরা এনসিপিআইয়ে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা একবার এই দলের টিকিটে জিতে আসুন। তাঁরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। এখানে এসে দলে যোগ দিলে, সেই দলের দুই তৃতীয়াংশ লোক কোথায়? শুধু এমপিরা যোগ দিলে হবে না।'  দলত্যাগ বিরোধী আইনে ওই ২০ জনের সাংসদ পদ খারিজের দাবি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। সেই প্রেক্ষিতে স্পিকারও নোটিস দিয়েছেন ২০ জনকে। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আরও একমাস সময় চেয়েছেন এনসিপিআই সাংসদরা। সূত্রের খবর, ২০ সাংসদের হয়ে লোকসভার সচিবালয়ে এই চিঠি দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিদ্রোহী সাংসদদের চরম কটাক্ষ কুণালের

মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষের চরম কটাক্ষ, 'ক্ষমতা থাকলে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিন । সাংসদ পদ বাঁচানোর জন্য এখন সময় চাইছেন কেন? এরা দলবদলু ও সুবিধাবাদী । তৃণমূলের প্রতীকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে এবং বিজেপি-বিরোধী ভোট নিয়ে জিতে এখন অন্য দলে গিয়েছেন। অথচ সাংসদ পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সময় চাইছেন ওই বেইমান সাংসদের যা অবস্থা, এরপর তো নিজেদের নাম বলতে ৩ দিন, বাবার নাম বলতে ৭ দিন সময় চাইবে।'

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement