
দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি নিয়ে প্রথম থেকেই 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছে বলে দাবি করে এসেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। সেই মতো মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কড়া বার্তা দিয়ে এসেছেন।
আসলে গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি, কাটমানি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েই ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তারা বারবার স্বচ্ছ সরকার গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি গিয়েছে। সেই মতো ক্ষমতায় এসেই একের পর এক দুর্নীতির শুরু হয়েছে তদন্ত। বহু ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতারা দুর্নীতির অভিযোগে জেলে পর্যন্ত গিয়েছেন।
তবে এমন পরিস্থিতিতেই হঠাৎ করে বিজেপির একাংশের নেতা-কর্মীরাই তোলাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এলাকায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, প্রোমোটার থেকে শুরু করে সাধারণ দোকানদার, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে টাকা। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটবাজিও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর সবথেকে বড় কথা, অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ নয়, বরং দলীয় কর্মীদের একাংশই এই দিকে আঙুল তুলছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের বিরুদ্ধেই করছেন পোস্ট। তাতেই বিজেপির বিড়াম্বনা বাড়ছে।
আর রোগটা যে দলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে এই খবর পৌঁছে গিয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই একের পর এক বড় নেতা তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন শমীক। তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হাতে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরাও দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ভাবে সেটা করার চেষ্টা করছি।'
তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, 'এই ডিম কিন্তু অন্যদকেও ঘুরতে পারে। এটা প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে।' তাই দলীয় কর্মীদের তিনি মাত্র ১৫ দিন সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে শুধরে না গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে একই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন দিলীপও। তিনি বলেন, 'আমাদের বহু নেতা তোলাবাজির মধুতে আসক্ত, তোলাবাজির সংস্কৃতি এত তাড়াতাড়ি উঠে যাবে, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই... পুলিশকে বলা হয়েছে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নিতে হবে।'
এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, পার্টি সব দিকেই নজর রাখছে। ঠিক সময় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই বিষয় নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি জানিয়ে দেন, তোলাবাজি করলেই দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই ধরনের কার্যকলাপ মেন নেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি ভালই জানে মানুষ কাটমানি, দুর্নীতি বা তোলাবাজি পছন্দ করে না। তারপরও দলের নেতা এবং কর্মীরা ক্ষমতায় আসার পর এই কয়েক দিনেই এসবের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন। তাই তারা এখনই কড়া বার্তা দিতে চাইছেন। যাতে এই 'রোগ' আর না ছড়াতে পারে। এখন দেখার এই সব কড়া বার্তায় আর কোনও লাভ হয় কি না।