
ঘূর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণ চুরি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিল। আর এবার এই বিষয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট সামনে আনল কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ)। এই ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ নিয়ে মুখ খুললেন প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অডিট-২) মনীশ কুমার।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমফানের ত্রাণ নিয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মোট ছয়টি সুপারিশ করেছি। প্রথমত, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও রিপোর্ট তৈরির পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। তার মাধ্যমেই কার্যকর প্ল্যানিং করা যেতে পারে। কারণ, আমাদের অডিটে দেখা গিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রেই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'ত্রাণ সহায়তার জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন ফরম্যাট তৈরির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, কারা ত্রাণ পাবেন, সেই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে হবে। এটাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে হবে। কারণ, আমাদের তদন্তে একাধিক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।'
মনীশ কুমারের আরও দাবি, ত্রাণের টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সমস্ত নথি যাচাই করা। এটা বাধ্যতামূলকভাবে করা উচিত। এছাড়া ত্রাণসামগ্রী মজুত ও বিলির উপর নজরদারি আরও জোরদার করার সুপারিশও করা হয়েছে ক্যাগের পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, "বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম এবং সন্দেহজনক টাকা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। তাই পুরো প্রক্রিয়ার তদন্ত করা উচিত। পাশাপাশি, সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার একটি 'অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট' আমাদেরও দিতে হবে। এর মাধ্যমেই আমরা তা যাচাই করতে পারব।"
তিনি আরও দাবি করেন, 'সরকার যদি বলে যে তারা ত্রাণ বিলির জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, শুধু এই কথা শুনেই আমরা বিশ্বাস করব না। আমরা সরেজমিনে গিয়ে খতিয়ে দেখব। আমরা দেখব সুপারিশ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা বাস্তবে নেওয়া হয়েছে। এটাই হল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।'
কী কী অভিযোগ?
২০২০ সালের ২০শে মে পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানে আমফান। এই ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৮৫ কিমি। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বকখালি ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা।
এরপর ত্রাণ বিতরণ শুরু করে প্রশাসন। আর সেই ত্রাণ বিলি ঘিরেই একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। দাবি করা হয়, তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে ত্রাণ বিলির ক্ষেত্রে বিস্তর অনিয়ম করেছে। অনেক ক্ষেত্রে চুরি করা হয়েছে ত্রাণ। আবার কিছু ক্ষেত্রে যোগ্য প্রাপকদের রাজনৈতিক রং দেখে বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেকে আবার একাধিকবার পেয়েছে ত্রাণ। আর বিরোধীদের সেই সব দাবিই যে সত্যি, সেটা এবার জানিয়ে দিল ক্যাগ।