
Shamik Bhattacharya Against Extortion: রাজ্যে সরকার গঠনের পর তিন মাসও পেরোয়নি। এর মধ্যেই তোলাবাজি নিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। বিষয়টি স্বীকারও করলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য। দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। সে কথা মেনে নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শুধু অভিযোগ স্বীকারই নয়, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, 'এই প্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না।' আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজারহাটের আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন শমীক। বলেন, 'রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরও তোলাবাজির মতো পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে সেই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার এবং দল; দুই স্তরেই জোরদার পদক্ষেপ চলছে।'
শমীক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় একটি 'সিন্ডিকেট সংস্কৃতি' তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংস্কৃতি রাতারাতি বদলে যায় না। তিনি বলেন, 'আমি যদি দাবি করি, রাজ্যের সব জায়গা থেকে তোলাবাজি বন্ধ করে দিয়েছি, তা হলে সেটা সত্যি বলা হবে না। এখনও কিছু বিচ্যুতি রয়েছে। বহু বছরের একটি অভ্যাস এক দিনে শেষ হয় না।'
এর পরেই আরও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর কেউ কেউ দ্রুত শাসকদলে যোগ দিয়েছেন। আবার বিজেপির নাম ব্যবহার করেও কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছেন। কারও কারও দীর্ঘদিনের 'অতৃপ্ত বাসনা' এখন প্রকাশ্যে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন। যদিও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমীক বলেন, অভিযুক্তরা দলের অনুমোদিত সদস্য নন। বিজেপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তোলাবাজির চেষ্টা চলছে। তাঁদের কাছে এমন অভিযোগ এসেছে।
শমীক জানান, এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক; দুই দিক থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপিও সাংগঠনিক স্তরে নজরদারি বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, 'সরকারের নীতি একটাই; জিরো টলারেন্স। আমরা আরও ১৫ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। তার পর কী হবে, সবাই দেখতে পাবেন।'
শুধু শমীক নন, একই মঞ্চ থেকে তোলাবাজি নিয়ে কড়া বার্তা দেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তাঁর মতে, তোলাবাজি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে গিয়েছে। তাই রাতারাতি এই সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার এবং দল এই প্রবণতা বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।
দিলীপ জানান, তোলাবাজির অভিযোগ পেলে তিনি নিজের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, 'আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতি বন্ধ করা আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমরা সেই লড়াই থেকে পিছিয়ে আসব না।'
সাধারণ মানুষের প্রতিও আবেদন জানিয়েছেন দিলীপ। তিনি বলেন, কোথাও তোলাবাজির অভিযোগ থাকলে ভয় না পেয়ে প্রশাসন বা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো উচিত। বিষয়টি চেপে না রেখে সামনে আনলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। 'মানুষ ভয় পাবেন না। সরকার এবং পুলিশ তাঁদের পাশে রয়েছে,' বলেন তিনি।