Advertisement

কেউ ABVP, কেউ আবার BMS, TMC কর্মীদের এমন আপনাআপনি 'দলবদলে' ক্ষুব্ধ সঙ্ঘ, ১৭ থানায় অভিযোগ

এবিভিপি-র রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, সংগঠনের নাম অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তারা ইতিমধ্যেই ১৭টি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে নজরদারিও শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংগঠনের তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দাবি করা হয়, নকল এবিভিপি লেটারহেড ব্যবহার করে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য।-ফাইল ছবিশমীক ভট্টাচার্য।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 29 May 2026,
  • अपडेटेड 10:18 AM IST
  • বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর শুধু রাজনৈতিক সমীকরণই বদলায়নি, তার প্রভাব পড়েছে আরএসএসের একাধিক সহযোগী সংগঠনের উপরও।
  • বিশেষ করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর মতো সংগঠনগুলিকে এখন সামলাতে হচ্ছে নতুন এক সমস্যার, তৃণমূলের বহু কর্মী ও সমর্থক নিজেদের হঠাৎ করে এই সংগঠনগুলির সদস্য বলে দাবি করতে শুরু করেছেন।

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর শুধু রাজনৈতিক সমীকরণই বদলায়নি, তার প্রভাব পড়েছে আরএসএসের একাধিক সহযোগী সংগঠনের উপরও। বিশেষ করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর মতো সংগঠনগুলিকে এখন সামলাতে হচ্ছে নতুন এক সমস্যার, তৃণমূলের বহু কর্মী ও সমর্থক নিজেদের হঠাৎ করে এই সংগঠনগুলির সদস্য বলে দাবি করতে শুরু করেছেন।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রবণতা চোখে পড়তে শুরু করে। অভিযোগ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত বহু ছাত্রনেতা নিজেদের এবিভিপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, যাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁদের অনেকেই শ্রমিক সংগঠন বিএমএস-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ছোট ইউনিয়নের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এবিভিপি-র রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, সংগঠনের নাম অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তারা ইতিমধ্যেই ১৭টি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে নজরদারিও শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংগঠনের তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দাবি করা হয়, নকল এবিভিপি লেটারহেড ব্যবহার করে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য জানান, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই টিএমসিপি-র একাধিক ইউনিট নিজেদের পরিচয় বদলে এবিভিপি-র নাম ব্যবহার করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আগের টিএমসিপি গ্রুপগুলো এখন এবিভিপি পরিচয়ে সক্রিয় হচ্ছে। পড়ুয়াদের বিভ্রান্ত করতেই এই চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই ১৭টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবিভিপি-র সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। ফলে ভুয়ো পরিচয়ে বেশিদিন কেউ সক্রিয় থাকতে পারবে না। যারা সত্যিই এবিভিপি-তে যোগ দিতে চান, তাঁদের সরাসরি সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিনই একটি টিএমসিপি-ঘনিষ্ঠ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিজেদের পরিচয় বদলে এবিভিপি বলে দাবি করতে শুরু করে। এরপর রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও মেডিকেল কলেজের একাধিক ছাত্র সংগঠনও একই পথে হাঁটে বলে অভিযোগ।

Advertisement

৫ মে, অর্থাৎ ফল ঘোষণার পরদিন, একদল স্বঘোষিত এবিভিপি কর্মী বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি উপাচার্যকে স্লোগান দিতেও বাধ্য করা হয় বলে দাবি। যদিও এবিভিপি দ্রুত জানিয়ে দেয়, ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।

নির্বাচনের ফলের পর থেকেই রাজ্যের নানা প্রান্তে দেখা যায়, বহু তৃণমূল কর্মী আচমকাই বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে “জয় শ্রী রাম” স্লোগান দিতে শুরু করেছেন। বিজেপি এই ধরনের কর্মীদের “পোস্ট-পোল বিজেপি” বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের পর হঠাৎ দলবদল করা কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না।

তবে বিজেপির একাংশের দাবি, সরাসরি বিজেপিতে জায়গা না পেয়ে অনেকে এখন সংঘ পরিবারের ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলিতে ঢোকার চেষ্টা করছেন, যাতে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলানো যায় এবং অতীতের অভিযোগ থেকেও দূরে থাকা যায়।

এই পরিস্থিতিতে বিএমএস-ও সতর্ক হয়েছে। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি এমন বহু ব্যক্তি বিএমএস-এর নাম ব্যবহার করছেন, যাঁদের অতীতে কোনও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কই ছিল না।

বিএমএস-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যারা এতদিন শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি ও অপসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের সঙ্গে বিএমএস-এর আদর্শের কোনও মিল নেই। বাংলায় স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত শ্রমিক সংগঠনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement