
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা UCC) নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে এবার পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। এই পরিস্থিতিতেই দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে সমাজমাধ্যমে বিস্তারিত বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিজেপির দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান এবং এটি দলের নির্বাচনী ইস্তেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে বিজেপির অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট ছিল এবং এতে কোনও ধরনের দ্ব্যর্থতা বা গোপন উদ্দেশ্য নেই।
তিনি আরও বলেন, ইউসিসি কার্যকর হলে ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেখানে বহুবিবাহের মতো ভিন্ন ভিন্ন বিধান রয়েছে, সেখানে সকল নাগরিকের জন্য সমান আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা যাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিরোধীদের অভিযোগের বিপরীতে সন্তানসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা পরিবার পরিকল্পনার সঙ্গে ইউসিসির কোনও সম্পর্ক নেই।
তফসিলি জনজাতির জন্য থাকছে বিশেষ ছাড়
ইউসিসি চালু হলে আদিবাসী সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতি, রীতি-নীতি ও প্রথা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিরোধীদের এই আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৬(২৫) এবং অনুচ্ছেদ ৩৪২ অনুযায়ী স্বীকৃত তফসিলি জনজাতির (Scheduled Tribe) সদস্যরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতার বাইরে থাকবেন। ফলে তাঁদের ঐতিহ্য, সামাজিক প্রথা এবং সংবিধান-স্বীকৃত বিশেষ অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।
বিভ্রান্তি দূর করতেই বিজেপির বার্তা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করার সম্ভাবনা সামনে আসতেই বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। আদিবাসী সমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করারও চেষ্টা চলছে বলে বিজেপির অভিযোগ।
এই প্রেক্ষাপটে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ইউসিসির লক্ষ্য সকল নাগরিকের জন্য সমান আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সংবিধানপ্রদত্ত তফসিলি জনজাতির বিশেষ অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যও অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনও কারণ নেই। সরকার একদিকে সমান নাগরিক আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, অন্যদিকে সংবিধান স্বীকৃত জনজাতির অধিকার রক্ষার বিষয়েও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।