
রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে সদস্য সংগ্রহের বিশেষ অভিযান শুরু করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। বৃহস্পতিবার, সংগঠনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা অন্তত দশগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, গত বছর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে এবিভিপির সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৪ হাজার।
ভট্টাচার্যের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রভাব এবং ক্যাম্পাসে ভয়ের পরিবেশের কারণে বহু ছাত্রছাত্রী এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত হতে সাহস পাননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাধা অনেকটাই কেটেছে বলে তাঁর দাবি।
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ শহরের একাধিক কলেজে পতাকা উত্তোলন, মিছিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবিভিপি। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সদস্যপদ গ্রহণের কুপনও বিতরণ করা হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ভবনের সামনে এবিভিপির উদ্যোগে পতাকা উত্তোলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গত দু'বছর ধরে এই স্থানেই সংগঠনটি রামনবমী উদযাপন করে আসছে।
নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা রাজ্যের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করতে চাই। তবে যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সির মতো ক্যাম্পাসে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব থাকবে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অতিবামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির প্রভাব ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই প্রভাব কিছুটা কমেছে বলে আমরা মনে করি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা এবিভিপির ভাবধারার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।'
এদিকে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ভট্টাচার্য বলেন, 'আমরাও এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছিল। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট হোক, তা আমরা কখনও সমর্থন করি না। এই অব্যবস্থার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'
এবিভিপির এক নেতা জানান, সংগঠনটি রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনরায় চালুর দাবিও জোরালোভাবে তুলবে। উল্লেখ্য, গত প্রায় ১২ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।
গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।